তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

জ্বালানিমন্ত্রীর ভাষণে জ্বলছে জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত জনগণ

জ্বালানিমন্ত্রীর ভাষণে জ্বলছে জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত জনগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৭ সেপ্টেম্বর :

‘গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা ছিল, এখন নেই’—২৬ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে এক সমাবেশে এমন দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। কিন্তু মন্ত্রীর বক্তব্যের সময়কার সরকারি হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার হিসাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ তখনও ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও স্বস্তির চিত্র নেই। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় ১৬ হাজার ৪৯৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট; লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৬৮৪ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ মন্ত্রীর ভাষণে যখন ‘সমস্যা নেই’, তখন হিসাবের খাতায় গ্যাসে হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি ঘাটতি এবং বিদ্যুতে হাজার মেগাওয়াটের লোডশেডিংয়ের তথ্য রয়েছে।

সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে—এটি সত্য। কিন্তু সরবরাহ কিছুটা বাড়াকে জ্বালানি সংকট পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জনগণের কাছে তাই প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের এত বড় ব্যবধান এবং বিদ্যুতে হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি যদি ‘সমস্যা না থাকে’, তাহলে জ্বালানি সংকট বলতে আর কী বোঝায়?

মন্ত্রীর বক্তব্যে হয়তো স্বস্তির ছবি ফুটে উঠেছে, কিন্তু জ্বালানি সংকটে ভোগা মানুষের অভিজ্ঞতা এবং সরকারি পরিসংখ্যান সেই ছবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।