তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ঢাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ, ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের দাবি পুলিশের

ঢাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ, ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৭ সেপ্টেম্বর :

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। এসব ঘটনার কয়েকটিতে পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সব ঘটনাকে একই সংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এখনো প্রকাশ্য তদন্তে নিশ্চিত করা হয়নি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কের মীনা বাজারের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তখনও বলা হয়নি যে তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণে একজন পথচারী গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রায়হান উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। তাদের একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে বংশাল ও ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এটি পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট দাবি; আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্য নয়।

এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শ্যামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপকরণ এবং ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ডিএমপি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির নিজস্ব সংবাদমাধ্যমেও ২৬ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজধানীতে এর আগে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, মগবাজার ও বাবুবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে কাফরুলসহ কয়েকটি এলাকায় বাসে আগুনের ঘটনাও ঘটে।

১৯ সেপ্টেম্বর মিরপুরে একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং যাত্রাবাড়ীতে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের খবরও প্রকাশিত হয়। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় একজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

অর্থাৎ, রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন এবং এসব ঘটনায় গ্রেপ্তারের ঘটনা সত্য ও বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত।