গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ট্রাজেডি: ২২ জনের মৃত্যু, ৪ জন সুনামগঞ্জের
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২৯ মার্চ: গ্রিসে যাবার সময় ভূমধ্যসাগরে ২২জনের সলিল সমাধি ঘটেছে। গত শুক্রবার বাকিদের উদ্ধার করা হয়। গত ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর তোবরুক থেকে রাবারের নৌকায় গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল মোট ৪৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। নৌকাটিতে ছিলেন বাংলাদেশের ২১ জন, দক্ষিণ সুদানের ৪ জন এবং চাদের ১ জন।
ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে নৌকাটি পৌঁছালে কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু ঘটে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজনও রয়েছেন। মৃতরা হলেন:
সাবেক ইউপি সদস্য এওর মিয়া এবং বেঁচে থাকা অভিবাসী রোহান আহমদ জানিয়েছেন, নৌকায় খাবার ও পানির সংকটের কারণে বহুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। মানব পাচারকারীর নির্দেশে মৃতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ধরনের রাবারের নৌকাকে স্থানীয়ভাবে “গেম” বলা হয়।
এ ঘটনার বেঁচে ফেরা ২৬ জনের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানি এবং একজন চাদের নাগরিক। বেঁচে থাকা চারজন বাংলাদেশি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুইজনকে ক্রিট দ্বীপের হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গ্রিস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুজন দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ প্রবেশ’ এবং ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’ এর অভিযোগে তদন্ত চলছে।
এই ট্রাজেডি মানব পাচারের ভয়াবহতা এবং ইউরোপে অভিবাসীদের নিরাপত্তার ঘাটতি পুনরায় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। সাগরপথের এই যাত্রা শুধু স্বপ্নের পথে নয়, জীবনধারার এক ভয়ঙ্কর ঝুঁকি হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।