ইরান ইস্যুতে নতুন কৌশল—যুদ্ধের ব্যয় আরবদের ওপর চাপাতে চান ট্রাম্প
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কৌশল সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য যুদ্ধের ব্যয়ভার আরব মিত্র দেশগুলোর ওপর ভাগ করে দেওয়ার চিন্তা করছেন তিনি—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস।
২০২৬ সালের ৩০ মার্চ (সোমবার), ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় সকাল—হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। এই ব্রিফিং থেকেই প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব দেশগুলোর কাছে যুদ্ধ ব্যয়ের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাতে আগ্রহী।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ হলে আরব দেশগুলো কি সেই খরচ বহনে এগিয়ে আসবে। জবাবে লেভিট বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের আগে কিছু বলতে চান না, তবে এটি ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।
তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে তাদের আহ্বান জানাতে বেশ আগ্রহী হতে পারেন। এটি এমন একটি ধারণা, যা তার রয়েছে, এবং এ বিষয়ে তার কাছ থেকে আরও শোনা যাবে।”
এর আগে একই দিন, ৩০ মার্চ সকালেই (ওয়াশিংটন সময়) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে দেশটির জ্বালানি স্থাপনা ও তেলক্ষেত্র ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
একই প্রেস ব্রিফিংয়ে লেভিট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং তা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে”। তার দাবি অনুযায়ী, তেহরান প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও, ব্যক্তিগত আলোচনায় ভিন্ন সংকেত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে যা বলা হচ্ছে, তা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সঙ্গে যে যোগাযোগ হচ্ছে তার থেকে অনেকটাই ভিন্ন।” এমনকি তিনি দাবি করেন, ইরান গোপনে ওয়াশিংটনের কিছু প্রস্তাবে সম্মতিও দিয়েছে।
তবে সতর্কবার্তাও দেন লেভিট। তিনি বলেন, ইরান ব্যক্তিগতভাবে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র যাচাই করবে এবং নিশ্চিত করবে যে তেহরান তার কথার প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।
মাঠের পরিস্থিতি
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছে। ইরান ইতোমধ্যে মার্কিন প্রস্তাবকে “অবাস্তব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন কৌশল—যেখানে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক অংশীদার করতে চাওয়া হচ্ছে—তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আর্থিক চাপ কমাতে চাইছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি সংঘাতে সম্পৃক্ত করার পথ তৈরি করছে।
সমগ্র চিত্র
৩০ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে যুদ্ধের হুমকি বাড়ছে, অন্যদিকে আলোচনা চলার দাবি করা হচ্ছে। ঠিক এই সময়েই ট্রাম্পের “খরচ ভাগাভাগি” কৌশল নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
এখন প্রশ্ন—এই প্রস্তাব কি বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি এটি কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল মাত্র? তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুধু যুদ্ধের নয়, বরং অর্থনীতি ও কূটনীতির জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে।