তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
লন্ডনে অবৈধভাবে কাজের অভিযোগে ছয় মাসে গ্রেপ্তার ১,২৫৬ জন; বেড়েছে অভিযান
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৮ অক্টোবর :
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ২৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে হোম অফিসের অভিবাসন প্রয়োগকারী বিভাগ। একই সময়ে সন্দেহভাজন অবৈধ কর্মী নিয়োগের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৮১৪টি পরিদর্শন অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অভিযান বেড়েছে ৪৪ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
হোম অফিসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধভাবে কাজের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে লন্ডন অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। তবে এসব গ্রেপ্তারের অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক ব্যক্তি আদালতে অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
বৃটেনজুড়ে অভিযান ও গ্রেপ্তার বেড়েছে

যুক্তরাজ্যজুড়ে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অবৈধভাবে কাজের বিরুদ্ধে মোট ৭ হাজার ২৭০টি পরিদর্শন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ৫ হাজার ৫৫৪টি অভিযান এবং ৩ হাজার ৯৬৯টি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছিল।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দেশজুড়ে অভিযান বেড়েছে ৩১ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার বেড়েছে ২০ শতাংশ।
হোম অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা, নিয়োগকর্তাদের আইন মেনে চলতে বাধ্য করা এবং সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এসব অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কোন কোন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান হচ্ছে?
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে, ক্যাফে, সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র, খাবার ও পানীয় বিক্রির দোকান, গুদাম, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ খাতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে ও ক্যাফেতে ২ হাজার ১৯৫টি পরিদর্শন চালানো হয়। এসব অভিযানে ১ হাজার ৫৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে অভিযান ও গ্রেপ্তার—দুটিই বেড়েছে ৩১ শতাংশ।
বিউটি ইন্ডাস্ট্রি, নেইল বার, ট্যানিং সেন্টার ও নরসুন্দরদের ব্যবসাসহ সৌন্দর্যসেবার খাতে ১ হাজার ৪১টি অভিযান চালিয়ে ৬৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে গ্রেপ্তার বেড়েছে ৫৪ শতাংশ।
গুদাম, পণ্য বিতরণ ও ডেলিভারি পরিষেবা খাতেও অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ খাতে ৬৩৫টি অভিযানে ৬৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা পুরো যুক্তরাজ্যের হিসাব। শুধু লন্ডনের রেস্তোরাঁ, সেলুন বা ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, সরকারি প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানে তার পৃথক পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়া হয়নি।

নিয়োগকর্তাদেরও জরিমানা
অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় শুধু কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না; যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কাজ করার বৈধ অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে ১ হাজার ২০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়ানি জরিমানা করা হয়েছে। এসব জরিমানার মোট মূল্য ৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডের বেশি।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মদ বিক্রির লাইসেন্স পর্যালোচনা এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আইনে নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের কাজ করার বৈধ অধিকার যাচাই করতে হয়। যথাযথ যাচাই ছাড়া অবৈধভাবে কাজ করতে দেওয়া হলে নিয়োগকর্তাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে কোনো কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার আগে তাঁর কাজের অনুমতি যাচাইয়ের দায়িত্ব এবং কর্মীর নিজের অভিবাসনগত অবস্থার বিষয়টি এক নয়; প্রতিটি ঘটনার তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কী বার্তা?
লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মী, ব্যবসায়ী এবং রেস্তোরাঁ ও দোকানের মালিকদের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা কর্মী নিয়োগ করেন, তাঁদের প্রত্যেক কর্মীর কাজ করার বৈধ অধিকার যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ, কাজের অনুমতি অথবা নিজের অভিবাসনগত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকলে অনুমান বা অন্যের কথার ওপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশনা দেখা এবং প্রয়োজনে যোগ্য অভিবাসন পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, গ্রেপ্তার মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। শুধু কোনো ব্যক্তির জাতীয়তা, ভাষা, পোশাক বা পেশার ভিত্তিতে তাঁর কাজের অধিকার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
হোম অফিসের প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্রিটেনে অবৈধভাবে কাজের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পরিধি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে লন্ডনের সব অভিবাসী বা বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সন্দেহের চোখে দেখার কোনো ভিত্তি তৈরি হয় না।