তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

যুক্তরাজ্যে ঝড়ের তাণ্ডবে দুইজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎবিহীন হাজারো গ্রাহক; মঙ্গলবারও সতর্কতা

যুক্তরাজ্যে ঝড়ের তাণ্ডবে দুইজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎবিহীন হাজারো গ্রাহক; মঙ্গলবারও সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | যুক্তরাজ্য | ২৭ অক্টোবর:

যুক্তরাজ্যে পরপর দুটি শক্তিশালী ঝড়ের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু, ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট, বন্যা এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্টর্ম অস্টেনের পর স্টর্ম বোয়েলোর তাণ্ডবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৪ মাইল বেগে বাতাসের ঝাপটা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মঙ্গলবার নতুন করে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় আবহাওয়া সতর্কতা জারি রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের ২৬ অক্টোবরের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের সতর্কতা অনুযায়ী, মঙ্গলবারও দেশের উত্তরাঞ্চল ও স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বাতাসের কারণে জনজীবন ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।

গাছ পড়ে দুইজনের মৃত্যু

স্টর্ম বোয়েলোর আঘাতে রোববার পৃথক ঘটনায় দুই পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজ এলাকায় গাছের আঘাতে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। উত্তর লন্ডনের ফিঞ্চলিতে চলন্ত গাড়ির ওপর গাছ পড়ে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া স্কটল্যান্ডের অ্যাবারফেল্ডিতে গাছের আঘাতে দুই নারী আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়া, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ায় জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারকাজ চালাতে হয়েছে।

প্রায় আট লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

ঝড়ের কারণে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সময়ে প্রায় আট লাখ বাড়ি বা গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর সকালে এনার্জি নেটওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য উদ্ধৃত করে স্কাই নিউজ জানায়, তখনো প্রায় ৩৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।

তবে এটি সোমবার সকালের হিসাব। মঙ্গলবার রাত ১টা ৫৫ মিনিটে ঠিক কতজন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন, তার নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে সোমবার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজও অব্যাহত ছিল।

মঙ্গলবারও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা

মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সুদূর উত্তরাঞ্চল, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বাতাসের জন্য হলুদ সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৩টা পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের কয়েকটি এলাকায় আরেকটি হলুদ সতর্কতা জারি ছিল।

সতর্কতাপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে স্থলভাগে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫০ মাইল এবং উন্মুক্ত উপকূল ও উঁচু স্থানে ৬০ থেকে ৬৫ মাইল বেগে বাতাস বইতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।

বন্যা ও পরিবহনব্যবস্থায় বিপর্যয়

স্টর্ম বোয়েলোর সময় স্কটল্যান্ডের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে লার্গস ও সল্টকোটস এলাকায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে পানি ঢোকার খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

রেললাইনে গাছ পড়ে যাওয়া, স্টেশনে পানি ঢোকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কিছু এলাকায় ট্রেনের গতি সীমিত করা এবং রেলপথের অংশবিশেষ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হয়। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে; কিছু ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।

২৬ অক্টোবর বিকেলে স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে ইংল্যান্ডে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে এমন ছয়টি সতর্কতা এবং বন্যা হতে পারে এমন ৫৪টি সতর্কবার্তার কথা বলা হয়েছিল। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এগুলো সোমবারের হিসাব; মঙ্গলবার রাতের সর্বশেষ সংখ্যা হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা যাবে না।

জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

পরপর দুটি ঝড়ের পর আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও নতুন করে বাতাস ও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাই মঙ্গলবার যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রবল বাতাসের সময় বড় গাছ, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং উন্মুক্ত উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলা নিরাপদ। বন্যাপ্রবণ এলাকায় পানি জমে থাকা সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো থেকেও বিরত থাকা উচিত।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া সতর্কতার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে মেট অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে। বিদ্যুৎবিভ্রাটের অভিযোগ জানাতে বিনা মূল্যে ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।

সর্বশেষ পরিস্থিতি: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর রাত ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টর্ম বোয়েলোর প্রধান আঘাত কেটে গেলেও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজ চলছে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।