‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

পিস্তল দেখিয়ে শিক্ষিকাকে সিএনজিতে তোলার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার ভিন্ন দাবি

পিস্তল দেখিয়ে শিক্ষিকাকে সিএনজিতে তোলার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার ভিন্ন দাবি

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২৯ সেপ্টেম্বর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক শিক্ষিকাকে পিস্তল দেখিয়ে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে। পরে কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় চলন্ত সিএনজি থেকে লাফ দিয়ে ওই শিক্ষিকা নিজেকে রক্ষা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেলে কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে। ওই রাতেই শিক্ষিকা দেলোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

শিক্ষিকার অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তার পথ আটকে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার পিস্তল বের করে ভয় দেখিয়ে তাকে জোর করে সিএনজিতে তোলেন। এ সময় সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে সিএনজিটি কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন শিক্ষিকা। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘অপহরণ নয়, রাগ কমাতে ঘুরিয়েছি’

অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ বলেন, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার প্রায় এক মাসের সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর শিক্ষিকার রাগ কমাতেই তিনি তাকে সিএনজিতে করে ঘুরিয়েছেন।

তার দাবি, অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিকভাবে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষিকা

তবে শিক্ষিকা তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ি যাওয়ার পথে দেলোয়ার তার পথরোধ করে কথা বলতে চান। রাজি না হওয়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে জোর করে সিএনজিতে তোলা হয়।

ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান ওই শিক্ষিকা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কমিটির পক্ষ থেকেও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।