‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ব্রিটেনে পানি-বিদ্যুৎ খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৯ সেপ্টেম্বর: ব্রিটেনে পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এসব পরিষেবা শুধু ব্যবসার বিষয় নয়—জনজীবনের মৌলিক প্রয়োজন। তাই গ্রাহকের স্বার্থ, পরিষেবার মান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি ভূমিকা বাড়ানো প্রয়োজন।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জন্য এর কিছু সম্ভাব্য সুবিধা রয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি বাড়লে অতিরিক্ত মুনাফার পরিবর্তে গ্রাহকের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পরিষেবার মান উন্নত করা এবং ভবিষ্যতে বিল কমানোর ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
তবে এর বিপরীত দিকও রয়েছে। পানি কোম্পানিতে সরকারি মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। সেই অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে গেলে শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর চাপ পড়তে পারে। আবার সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেই যে পানি বা বিদ্যুতের বিল সঙ্গে সঙ্গে কমবে, তারও নিশ্চয়তা নেই।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো দক্ষতা। বেসরকারি কোম্পানির পরিবর্তে সরকারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলে ব্যবস্থাপনা ভালো হলে জনগণ লাভবান হবেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা থাকলে একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় এবং নিম্নমানের পরিষেবার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ, শুধু বেসরকারি থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে গেলেই জনগণের লাভ হবে—এমন সরল হিসাব নেই। প্রকৃত ফল নির্ভর করবে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে আসে, কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হয় এবং সেই পরিবর্তনের খরচ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপর কতটা পড়ে তার ওপর।
ব্রিটেনের সামনে তাই মূল প্রশ্ন শুধু ‘সরকারি না বেসরকারি’ নয়; বরং কোন ব্যবস্থায় জনগণ ভালো পরিষেবা, যুক্তিসংগত বিল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সবচেয়ে বেশি নিশ্চয়তা পাবেন—সেটিই বড় বিষয়।