বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি—খালেদা জিয়া আর নেই

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি—খালেদা জিয়া আর নেই

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ফজরের ঠিক পরে তিনি ইন্তেকাল করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল এবং ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

মৃত্যুকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, বড় বোন সেলিনা ইসলাম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সব সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী জীবনে তিনি কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেও জয়ী হন। দেশের রাজনীতিতে তাঁর জীবন আপসহীনতা, দৃঢ়তা ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহিত হন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় গৃহবধূর অবস্থান থেকে; ১০ বছরের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দলের ঐক্য রক্ষা ও দেশীয় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যান। এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য স্থান অধিকার করেছেন। নির্বাচনী ইতিহাসে তাঁর এক নজির হলো পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতে জয়ী হওয়া। সার্কের চেয়ারপারসন হিসেবেও দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যুর খবরে বিশ্বব্যাপী শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, ভারত, পাকিস্তান ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর অবদান স্মরণ করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর জীবন দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপোষহীন সংগ্রামের এক অমলিন প্রতীক।