শান্তি, টিপসি, পুতুল, খালেদা খানম থেকে বেগম খালেদা জিয়া
বাবা-মার সাথে শিশু খালেদা খানম ডানে ও বামে তরুনী বেগম জিয়া
তথ্য কণিকা ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর : সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জন্মেছিলেন ১৯৪৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পাহাড়ী পর্যটন জেলা জঙ্গলময় জলপাইগুড়ির ছোট্ট এক শহরে। শৈশব-কৈশোরের আনন্দঘন দিন আর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি যোগ দেন রাজনীতিতে। এরপর দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় কেটে যায় রাজনীতির মাধ্যমে দেশসেবায়।
কেমন ছিল আপসহীন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শৈশব ও কৈশোর? সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদের ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ বইয়ে তাঁর জীবনের নানা ধাপ উঠে এসেছে শৈল্পিক বর্ণনায়।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত বইটিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৪৫ সাল। বিশ্বশান্তির বিরল এক মুহূর্ত এবং একটি জন্ম। জলপাইগুড়ির একটি ছোট্ট শহরের মজুমদার বাড়িতে সেদিন খুশির বন্যা। সেখানে ইস্কান্দর মজুমদার ও বেগম তৈয়বা মজুমদারের একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। দেখতে সে তার মা-বাবার মতোই। দুধে-আলতা গায়ের রং। ভূমিষ্ঠ হয়েই কাঁদছিল।
যেখানে থাকতেন সেই নয়াবস্তি এলাকায় আজ সকাল থেকেই বিষাদের সুর। এলাকার এক বাসিন্দা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, খালেদার পরিবার যে বাড়িটিতে থাকতেন, তার পাশের বাড়িতেই তাঁর বাস। বাংলাদেশ থেকে আত্মীয়রা এলে এখন তাঁর বাড়িতেই ওঠেন। আগেকার বাড়ি দেখেশুনে আবার ফিরে যান। সুনীতি বালা সদর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা। নয়াবস্তি পাড়াতে বসবাস ছিল পরিবারের। জলপাইগুড়ি শহরে ব্যাঙ্কিং এবং শেয়ার কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে কাজ করতেন খালেদা জিয়ার বাবা মহম্মদ ইসকান্দর। দেশভাগের পরবর্তী সময়ে চক্রবর্তী পরিবারের সঙ্গে জমি বিনিময় করে বাংলাদেশে চলে যায় খালেদা জিয়ার পরিবার। তারপর থেকে আর ফেরেননি এই শহরে। কিন্তু তার আত্মীয়দের নিয়মিত আসা যাওয়া রয়েছে।
এ বাড়িতে নতুন শিশু আসবে সবাই তা জানত। তাই নতুন শিশুর জন্য পেয়ালায় আগে থেকেই রাখা ছিল মধু। বৃদ্ধ ধাত্রী শিশুর মুখে মধু তুলে দিতেই কান্না থেমে গেল। এরপর শান্ত শিশু বড় বড় চোখে তাকাল এদিক-ওদিক। দেখল এক রহস্যময় পৃথিবী।
তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। নতুন শিশুর আগমনে পরিবারের সবাই আনন্দিত। শিশুর বড়বোন খুরশীদ জাহান আঁতুড় ঘরে গিয়ে দেখল সদ্যোজাত বোনকে। খুশিতে সে দিশেহারা। ছোট বোন বিউটি তখনও ঘুমিয়ে। খুরশীদ দৌড়ে গেল তার কক্ষে। ঘুম থেকে ডেকে তুলল তাকে। বলল, দেখ এসে বিউটি, আমাদের কি সুন্দর বোন হয়েছে! আকস্মিক খবরে ছোট্ট বিউটি হকচকিয়ে গেল। ওর বয়স তখন আড়াই বছর। চোখ কচলাতে কচলাতে সেও গেল আঁতুড়ঘরে। নতুন বোনকে দেখে মহাখুশি। আবেগে বলেই ফেলল—‘ওটা আমার পুতুল। আমি ওর সঙ্গে খেলব।’
খুশিতে বাবা ইস্কান্দর মজুমদার দোকানে গেলেন মিষ্টি আনতে। পাশের বাড়ির বউ-ঝিরাও এলো মজুমদার বাড়িতে। এলো নতুন শিশুকে দেখতে। শিশুকে দেখে কেউ বলল রাজকন্যা, কেউ বলল লাল টুকটুকে মেয়ে! তারা কামনা করল নতুন শিশুর দীর্ঘজীবন।

খুশির খবর পেয়ে মজুমদার সাহেবের বন্ধু ডাক্তার অবনী গুহ নিয়োগিও গেলেন ওই বাড়িতে। তিনি মজুমদার সাহেবের শুধু বন্ধুই নন, এ বাড়ির নিয়মিত চিকিৎসকও। উঠান থেকেই ডাকলেন মজুমদার সাহেবকে। বললেন, আগে মিষ্টি চাই। মেয়ে এমন সময় জন্ম নিয়েছে যখন সর্বত্র শান্তি। এই মেয়ের নাম রেখে দাও ‘শান্তি'।
১৯৪৫ সালটিকে বলা যায় নতুন এক পৃথিবী। সবেমাত্র বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে দুনিয়া মুক্ত হয়েছে। চারদিকে শান্তির জয়গান। শান্তির বাণী নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় বের হচ্ছে মিছিল। যুদ্ধ নয়, শান্তি—এ চুক্তি স্বাক্ষর করতে উদ্যোগী নেতারা। এমন পরিবেশেই জন্ম নিলেন খালেদা জিয়া।
মায়ের কোলে, বোনদের আদরে বড় হতে থাকলেন খালেদা জিয়া। একদিন-দুদিন করে তার বয়স হলো সাত দিন। এবার নাম রাখার পালা। চলল নানা আয়োজন। ভালো খাবারের আয়োজন করা হলো। আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেওয়া হলো। এভাবেই সম্পন্ন হলো তার আকিকা। সেদিন বাবা তার তৃতীয় কন্যার নাম রাখলেন খালেদা খানম। সন্তানদের নাম সাধারণত তিনিই রাখতেন। বিপত্তি দেখা দিল ডাকনাম নিয়ে। কী নামে ডাকা হবে তাকে? শান্তি, টিপসি না পুতুল? শান্তি নামটি পছন্দ করেছেন পারিবারিক চিকিৎসক ডাক্তার অবনী গুহ নিয়োগি। টিপসি নামটি দিয়েছিলেন বাবা ইস্কান্দর মজুমদার। আর পুতুল নামটি আগেই দিয়ে রেখেছে মেজো বোন বিউটি। অবশেষে বিউটিরই জয় হলো। তার পছন্দ করা পুতুল নাম রাখার সিদ্ধান্ত হলো। খালেদা জিয়ার ডাকনাম সেদিন থেকেই পুতুল।

খালেদা জিয়া যখন জন্ম নিলেন, জলপাইগুড়ি তখন এক শান্ত-স্নিগ্ধ শহর। সেই শহরের মধুময় স্মৃতি মনে আছে খালেদা জিয়ার মা বেগম তৈয়বা মজুমদারের। সৈয়দ আবদাল আহমদ বইতে উল্লেখ করেন, ১৯৯০ সালে তাঁর সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তার চোখে এখনও ভেসে ওঠে জলপাইগুড়ি, ভেসে ওঠে সন্তানদের জন্মের স্মৃতি– ‘জলপাইগুড়িতে আমাদের বাড়িটি ছিল গাছগাছালিতে ভরা। ভোরে ঘুঘু, বউ কথা কও প্রভৃতি পাখির ভৈরবী আলাপে আমরা শয্যাত্যাগ করতাম। এক ধরনের পাখির ডাকে আমরা বুঝতাম এখন মাগরিবের আজানের সময় হয়েছে। রাতে কুরুয়া পাখির ডাকে বুঝতাম এখন মধ্যরাত। আবার রোজার দিনে মোরগের ডাকে আমরা সেহরি খেতে উঠতাম।’ কথাগুলো বলতে বলতে বেগম তৈয়বা মজুমদার হারিয়ে যান সেই জলপাইগুড়িতে– ‘আমাদের বাড়িটি ছিল টিনের চালার। কোনো পুকুর ছিল না। ছিল একটি গভীর কূপ। লম্বা দড়িতে বালতি বেঁধে পানি তোলা হতো। সেই পানিতেই রান্নাবান্না, গোসল ও খাবারের কাজকর্ম চলত। এর পানি ছিল স্বচ্ছ ঠান্ডা।’

তৈয়বা মজুমদারের ভাষ্যে, আমাদের বাড়ির এক পাশে ছিল একটি বাগান। আমরা এর নাম দিয়েছিলাম ‘কিচেন গার্ডেন’। গোলাপ, গাঁদা, বকুল প্রভৃতি ফুলে বাগানটি ছিল অপূর্ব। সে সময় সস্তায় নানা খাবার পাওয়া যেত। ফলমূলের অভাব ছিল না। খালেদা জিয়ার জন্মের স্মৃতিও মনে আছে বেগম তৈয়বা মজুমদারের।
‘পুতুলের জন্মের আগে যুদ্ধের খুব বিভীষিকা ছিল। মানুষ শুধু যুদ্ধেরই গল্প করত। পুতুলও জন্ম নিল, যুদ্ধও থেমে গেল। আমাদের পারিবারিক ডাক্তার অবনী গুহ এবং প্রতিবেশীরা বলত, পুতুল খুব সৌভাগ্যবান। আমার খুব আনন্দ লাগত। পুতুলের যেদিন জন্ম হলো, সেদিন থেকেই আমার মেজো মেয়ে বিউটি ওকে পুতুল নামে ডাকতে শুরু করল। বিউটির মাটির একটি পুতুল ছিল। একদিন পুতুলটির হাত-পা ভেঙে যায়। ফলে বিউটি খুব কান্নাকাটি করেছে। এর পরই আমার ছোট মেয়ে জন্ম নেয়। বিউটি মাটির পুতুলের কথা ভুলে যায়। বিউটি তখন থেকেই পুতুলকে নিয়ে সারাক্ষণ খেলত। পুতুল ছিল ওর সারাক্ষণের খেলার সাথী।’
খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার লেখাপড়ার জন্য ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। সেখানে মেট্রিক পাস করার পর তিনি চা ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়েন। তার বাড়ি ফেনীর শ্রীপুর থানার ফুলগাজী গ্রামে। ফুলগাজীর বিখ্যাত মজুমদার পরিবারের সন্তান তিনি। ১৯০৫ সালের ২৫ আগস্ট তার জন্ম। খালেদা জিয়ার দাদা হাজি সালামত আলী ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী, গায়ের রং ছিল ফর্সা। এলাকার মানুষ তাঁকে দরবেশ হিসেবেই আখ্যায়িত করত। তিনি যেমন ছিলেন দানশীল, তেমনি পরহেজগার। শেষ বয়সে সারাক্ষণ তিনি মসজিদেই কাটাতেন। নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল এবং আল্লাহর জিকিরেই নিয়াজিত থাকতেন। হাজি সালামত আলীর পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে সায়েরা খাতুন সবার বড়। এর পরই খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার। তারপর মোকাদ্দেস হোসেন মজুমদার, আওলাদ হোসেন মজুমদার, জামশেদ হোসেন মজুমদার, রওশন আরা বেগম ও দেলায়ার হোসেন মজুমদার। সায়েরা খাতুনকে পাশের গ্রাম মুন্সীরহাট দরবার বাড়িতে বিয়ে দেওয়া হয়। তার স্বামী ফজলুর রহমান জলপাইগুড়ি চা বাগানে চাকরি করতেন। জলপাইগুড়িতে বোন ও দুলাভাইয়ের কাছে থাকার জন্য ছোটবেলা থেকেই ইস্কান্দর মজুমদার বাবাকে বলতেন।

অবশেষে ১৯১৯ সালে বাবা ইস্কান্দর মজুমদারকে জলপাইগুড়ি যাওয়ার অনুমতি দেন। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বোনের কাছে থেকেই তিনি মেট্রিক পাস করেন। পরে চা বাগানে তার চাকরি হয়। কিন্তু কিছু দিন পর চাকরি ভালো না লাগায় ছেড়ে দেন। জড়িয়ে পড়েন চায়ের ব্যবসায়। একবার তিনি টি-প্ল্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন। ছোটবেলায় খালেদা জিয়া ছিলেন হ্যাংলা-পাতলা, প্রাণবন্ত এবং উচ্ছল মনের। মাছ তিনি মোটেও খেতেন না, তবে মাংস ছিল তার প্রিয় খাদ্য। তরকারির মধ্যে আলু এবং ঢেঁড়শের প্রতি বিশেষ অনুরাগ ছিল। গান গাইতে ভালোবাসতেন এবং নাচেও পারদর্শী ছিলেন, এমনকি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও জিতেছেন।
জলপাইগুড়িতে বেগম তৈয়বা মজুমদারের সঙ্গে ইস্কান্দর মজুমদারের পরিচয়। ১৯৩৭ সালের ১৯ মার্চ জলপাইগুড়িতেই তাদের বিয়ে হয়। তৈয়বা মজুমদার বোদা চন্দনবাড়ির মেয়ে। বোদা আগে জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত ছিল। বর্তমানে এটি পঞ্চগড় জেলায় পড়েছে। এ পরিবার বিখ্যাত ‘টি-ফ্যামিলি' নামে পরিচিত।
খালেদা জিয়ার দুই বছর বয়সের সময় বাবা ইস্কান্দর মজুমদার জলপাইগুড়ি থেকে দিনাজপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। জলপাইগুড়ি ছিল অবিভক্ত বাংলার রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা। বর্তমানে এটি ভারতের অন্তর্গত। দেশ বিভাগের সময় ইস্কান্দর মজুমদার ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে তিনি দিনাজপুরে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তার জলপাইগুড়ির বাড়িটি বেহাত হয়ে যায়। দিনাজপুরে এসে আবার তিনি ব্যবসা শুরু করেন। পরে দিনাজপুর মুদিপাড়ায় জায়গা কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দিনাজপুরের বাড়িটি খালেদা জিয়ার মায়ের নামে। দুই তলা বাড়িতে তারা কেউ থাকেন না। দুটো কক্ষ নিজেদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। এ দুটো কক্ষ ছাড়া পুরো বাড়িই দুস্থ মহিলাদের প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া হয়েছে। ১০০ দুস্থ মহিলাকে এখানে সেলাই, বাঁশ, বেত দিয়ে নানা জিনিসপত্র তৈরি এবং অন্যান্য হাতের কাজ শেখানো হতো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেগম তৈয়বা মজুমদার এটি পরিচালনা করতেন।

ইস্কান্দর মজুমদারের ফেনীর ফুলগাজী গ্রামের বাড়িটিও খুব সুন্দর। বাড়ির সামনে বিশাল দীঘির পাড়ে গম্বুজওয়ালা মসজিদ ও টিনের বাংলোঘর। ভেতরের প্রশস্ত উঠানওয়ালা বাড়ি। বাড়িতে তিনটি ঘর। একটিতে থাকতেন চাচা জামশেদ হোসেন মজুমদারের পরিবার, অপরটিতে তার ছেলেমেয়ে। একটি টিনের ঘর খালি পড়ে আছে। এটাই খালেদা জিয়ার পিতৃভিটা।
যুদ্ধের সঙ্গে খালেদা জিয়ার যেন কোথায় একটা যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলো, খালেদা জিয়াও জন্ম নিলেন। ঠিক তেমনি ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াও নির্বাচনে বিজয়ী হলেন, একই দিন ভয়াবহ উপসাগরীয় যুদ্ধও থেমে গেল। শুধু তাই নয়, ১৯৬৫ সালে তার স্বামী জিয়াউর রহমান পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে অংশ নিয়ে কৃতিত্ব দেখান। তখন তাঁর বিয়ের মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে তার স্বামী মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হয়।