ইরান ইস্যুতে রাজা আমার পাশেই থাকতেন: দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রিটেনের রাজা তার পাশে দাঁড়াতেন।
দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, রাজা তৃতীয় চার্লস প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের তুলনায় ভিন্ন অবস্থান নিতেন।
রাজা’র আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে পছন্দ করি। প্রিন্স থাকাকালীন সময় থেকেই তাকে পছন্দ করতাম। তিনি একজন ভালো মানুষ, আপনার দেশের জন্য একজন অসাধারণ প্রতিনিধি। আমার মনে হয়, ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিতেন, কিন্তু তিনি তা করেন না। তিনি একজন ভদ্রলোক।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে।

স্টারমার প্রায় প্রতিদিনই ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়ছেন, বিশেষ করে যখন তিনি ভারত মহাসাগরের যৌথ ব্রিটিশ-আমেরিকান ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেননি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে জাহাজ পাঠাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশে ট্রাম্প জানান, তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
ওয়াশিংটনে নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সফরটি যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সময়ের তুলনায় বর্তমান রাজা চার্লসের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “রাজা আমার একজন বন্ধু। এই পরিস্থিতির (ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অবনতি) সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।”
যদিও রাজা সাংবিধানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা রাখেন, বাস্তবে তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সরাসরি অংশ নেন না।
ট্রাম্প আরও বলেন, “রাজা চার্লসের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। অনেকদিন ধরে আমি তাকে চিনি। তিনি সত্যিই একজন অসাধারণ ও সাহসী মানুষ। তিনি অনেক কিছু সহ্য করেছেন।”
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি অনুরাগী। ধারণা করা হয়, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি তার শ্রদ্ধা থেকেই এই আগ্রহের সূচনা, যাঁর সঙ্গে তিনি দুইবার সাক্ষাৎ করেছিলেন।
একজন কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ট্রাম্প ও রাজা চার্লস নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং প্রায়ই একে অপরকে চিঠি লেখেন।
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের সমালোচনার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে কোনো কথা হয়নি বলেও জানা গেছে।
এই সফরের পূর্ণ সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে এতে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ এবং কংগ্রেসে ভাষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ধারণা করা হচ্ছে, রাজা ও রানি নিউইয়র্ক সফরও করবেন। এরপর রাজা এককভাবে বারমুডা সফরে যাবেন, যা রাজা হিসেবে তার প্রথম ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি সফর।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য সফরের সময় তাকে উইন্ডসর ক্যাসেলের প্রাঙ্গণে আইরিশ স্টেট কোচে ঘুরানো হয়, পরে তিনি গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন এবং রেড অ্যারোজের বিমান প্রদর্শনী উপভোগ করেন।
সেদিন সন্ধ্যায় সেন্ট জর্জস হলে প্রায় ১৬০ অতিথির উপস্থিতিতে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজনীতি ও ব্যবসা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সফরটি হবে রাজা চার্লসের যুক্তরাষ্ট্রে ২০তম সফর, তবে রাজা হিসেবে এটি তার প্রথম। ২০০৫ সালে বিয়ের পর প্রথম যৌথ সফরে তিনি ও রানি যুক্তরাষ্ট্রে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তিতে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন এবং বন্ধুত্বের বার্তা দেন। সেই সফরে এলিজাবেথ দ্বিতীয় জর্জ তৃতীয় ও উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে তার পরাজয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
গত বছরের রাষ্ট্রীয় সফরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের জয় সম্ভব—এই বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজা চার্লস, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধের জোরালো সমর্থক হিসেবে রাজা পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্যান্ড্রিংহ্যামে চায়ের আমন্ত্রণ জানান, যা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বৈঠকের কয়েকদিন পরের ঘটনা।
তবে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে রাজা চার্লসের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।