ব্রিটিশদের অতিরিক্ত £৪৫ গ্যাস বিল, যাচ্ছে বিদেশি ফান্ডের পকেটে

ব্রিটিশদের অতিরিক্ত £৪৫ গ্যাস বিল, যাচ্ছে বিদেশি ফান্ডের পকেটে

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১ এপ্রিল: 

ব্রিটেনে গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানি খরচ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরে অতিরিক্ত প্রায় £৪৫ করে আদায় করা অর্থ শেষ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে কাতার ও চীনের বিনিয়োগ তহবিলগুলোর কাছে—যাদেরকে সমালোচকরা “ভ্যাম্পায়ার এনার্জি ফান্ড” বলে অভিহিত করছেন।

ডাটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান Future Energy Associates-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাস নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য বিলের সঙ্গে যুক্ত চার্জ ২০২১ সালে বছরে £১১৮ থেকে বেড়ে আগামী ১ এপ্রিল থেকে £১৬৩.৬৯-এ পৌঁছাবে—যা প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ একই সময়ে মুদ্রাস্ফীতির ভিত্তিতে স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার হওয়া উচিত ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ।

বিদেশি মালিকানায় গ্যাস নেটওয়ার্ক

এই মূল্যবৃদ্ধি অনুমোদন করে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা Ofgem। তবে ‘Warm This Winter’ নামের একটি প্রচারগোষ্ঠীর দাবি, গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশিরভাগ মালিকানা বিদেশি কোম্পানির হাতে থাকায় আলোচনায় ভারসাম্য থাকে না।

এই নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে National Gas, যা মূল ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা পরিচালনা করে, এবং Cadent, যারা ৮০ হাজার মাইলেরও বেশি পাইপলাইন তদারকি করে।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদার হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান Macquarie Group, যেটি থেমস ওয়াটারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে বিতর্কের মুখে পড়েছে।

এছাড়া গ্যাস নেটওয়ার্কের মালিকানায় রয়েছে আরও ১১টি বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে চীনের China Investment Corporation এবং কাতারের Qatar Investment Authority উল্লেখযোগ্য।

“প্রাকৃতিক একচেটিয়া ব্যবসা” ও অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ

‘Warm This Winter’ জোট—যেখানে ৪০টির বেশি দাতব্য সংস্থা রয়েছে—বলছে, এই গ্যাস নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো কার্যত “প্রাকৃতিক একচেটিয়া ব্যবসা” পরিচালনা করে। ফলে তারা সহজেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে দরকষাকষিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস ও তথ্যগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের জন্য অযৌক্তিকভাবে বেশি দাম নির্ধারণ করছে, যা শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফায় পরিণত হচ্ছে।

এন্ড ফুয়েল পোভার্টি কোয়ালিশনের সমন্বয়ক সাইমন ফ্রান্সিস বলেন, “এই আলোচনা আরও স্বচ্ছ হওয়া দরকার, যাতে ‘ভ্যাম্পায়ার ফান্ড’গুলো পরিশ্রমী মানুষের পকেট থেকে অর্থ শুষে নিতে না পারে।”

“ভাঙা জ্বালানি ব্যবস্থা”

‘Warm This Winter’-এর ফিওনা ওয়াটার্স বলেন, “আবারও ব্রিটিশ জনগণকে এমন এক অস্বচ্ছ ও ভাঙা জ্বালানি ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হচ্ছে, যেখানে বিপুল মুনাফা বিদেশে চলে যাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের বিল বাড়ছে।”

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

গ্যাস নেটওয়ার্ক অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চার্জ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। এর মাধ্যমে বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

Ofgem-এর এক মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ২০২১-২২ সালের গ্যাস সংকটের প্রভাব মোকাবিলার খরচ পুনরুদ্ধার দায়ী।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ও ভবিষ্যতে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মূল্য নির্ধারণ এমনভাবে করা হয় যাতে নিরাপদ সরবরাহ বজায় থাকে এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়, একই সঙ্গে মুনাফা যেন ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত থাকে।”

এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, ব্রিটেনের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের প্রভাব কতটা গভীর। একদিকে অবকাঠামো উন্নয়নের যুক্তি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ—এই দ্বন্দ্বই এখন নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে।