উপসাগরে ব্রিটিশ সেনা বাড়ছে, ট্রাম্পের চাপের মাঝেও ‘যুদ্ধে নয়, প্রতিরক্ষায়’ অবস্থান লন্ডনের
লন্ডন, ১ এপ্রিল: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। মোট মোতায়েনকৃত সেনার সংখ্যা প্রায় এক হাজারে উন্নীত করা হচ্ছে—তবে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে, এটি কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি।
কাতার সফররত ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে “ক্রমবর্ধমান হুমকি” মোকাবিলায় এই অতিরিক্ত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যক্রম এখন শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বেসামরিক অবকাঠামোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
নতুন মোতায়েনের অংশ হিসেবে কাতারে অতিরিক্ত টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে। পাশাপাশি সৌদি আরব, বাহরাইন ও কুয়েতে আধুনিক স্কাই স্যাবর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ব্রিটিশ সেনারা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কাজ করবে।
তবে এই পদক্ষেপের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভাষার সমালোচনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে চাইছে না। এমনকি তিনি মিত্র দেশগুলোকেও সতর্ক করে বলেন—নিজেদের লড়াই নিজেরাই শিখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে না।
এই বক্তব্যের জবাবে লন্ডনের অবস্থান পরিষ্কার—যুক্তরাজ্য বৃহত্তর কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। হিলি স্পষ্ট করে বলেছেন, ব্রিটেন তার নিজস্ব স্বার্থ এবং জনগণের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করা হবে, তবে তা সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যেই থাকবে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তা পুনরায় সচল রাখার উপায় নিয়ে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। হিলি জানিয়েছেন, এই সংকট কেবল সামরিকভাবে সমাধান সম্ভব নয়—বরং বহুপাক্ষিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। একদিকে ইরানের বাড়তে থাকা প্রভাব ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্য একটি ‘সংযত কিন্তু প্রস্তুত’ কৌশল অনুসরণ করছে। যুদ্ধের আগুনে ঘি না ঢেলে, বরং প্রতিরক্ষার ঢাল শক্ত করাই এখন লন্ডনের প্রধান লক্ষ্য।