“সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো ইরানের তেল দখল করা” : ট্রাম্প
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৩১ মার্চ : গতকাল নিজস্ব ট্রুথ সোশ্যাল পেজে এবং ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রফতানি ও খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, তবে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত না হলে, ‘ইরানে আমাদের অবস্থান শেষ হবে এবং লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করা হবে’।

ইরানের মোট তেলের সিংহভাগ রফতানি খার্গ দ্বীপ থেকে হওয়ায়, ট্রাম্প বলছেন, সেখানে মোতায়েন হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত কমান্ডো। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ হাজার বেশি। আর্মি রেঞ্জার্স, নেভি সিলস ও প্যারাট্রুপাররা সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুত।
ইরানও পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বাসভবনগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু। তেল, বিদ্যুৎ ও লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটেছে।
এশীয় বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে $116 প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার মধ্যেই ইউরোপের দেশ স্পেনের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা, যা মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যাত্রা ব্যাহত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতি বা কোনো চুক্তি এখনও দূরদৃষ্টি, তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের তেলের ওপর দখলের পরিকল্পনা এবং খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে সামরিক চাপ স্পষ্ট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি জড়িত হবে না; লন্ডনের পদক্ষেপ কেবল প্রতিরক্ষামূলক।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা, তেলের বাজারে প্রভাব এবং প্রতিশোধের চক্র আরও দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।