স্মার্টফোনে ‘স্ক্যান’ করে অবৈধ বাংলাদেশি নির্ধারণ? ভারতের পুলিশের ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন
কোলকাতা থেকে আরশাদ আলী, ৩ জানুয়ারি:
অবৈধ বাংলাদেশি শনাক্তকরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক কর্মকাণ্ড নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গাজিয়াবাদের কৌশাম্বী এলাকায় তল্লাশির সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখা গেছে, কারও পিঠে স্মার্টফোন ঠেকিয়ে তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করতে—যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কৌশাম্বী থানার স্টেশন হাউস অফিসার অজয় শর্মাকে একটি বস্তি এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। সেখানে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির পিঠে ফোন ছুঁইয়ে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি ভারতীয় নন। একই সঙ্গে ‘মিথ্যা ধরার মেশিন’ থাকার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, তবুও এর পরপরই পুলিশের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পরিবারটি বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে জানান এবং মোবাইল ফোনে নথিপত্র দেখান। তবু সেগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পেশায় মাছ বিক্রেতা ওই ব্যক্তি জানান, তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন, অথচ বাংলাদেশি তকমা দিয়ে তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে—আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে নাগরিকত্ব যাচাই করা কতটা বৈধ। সাধারণত নাগরিক পরিচয় নির্ধারণে আধার, ভোটার আইডি বা পাসপোর্টের মতো নথি প্রয়োজন হয়, সেখানে স্মার্টফোন ব্যবহার করে এমন দাবি আইন ও যুক্তির বাইরে বলেই মত অনেকের।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশাম্বী থানা ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স যৌথভাবে একটি নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া চালাচ্ছিল। তবে বিতর্কের জেরে গাজিয়াবাদ পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে—অনুপ্রবেশ রোধের নামে সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকছে, আর আইন প্রয়োগের সীমারেখাই বা কোথায়।
পূর্ববর্তী সংবাদ