ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

স্পেনে বৈধতার সুযোগ নিতে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর আবেদন, ইউরোপে ভিন্ন বার্তা দিল মাদ্রিদ

স্পেনে বৈধতার সুযোগ নিতে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর আবেদন, ইউরোপে ভিন্ন বার্তা দিল মাদ্রিদ

ইউরোপ প্রতিনিধি, ২ জুলাই:

ইউরোপের অনেক দেশ যখন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন স্পেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। দেশটির সরকার অবৈধভাবে বসবাসকারী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বৈধ মর্যাদা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচিতে এক বছরের আবাসন ও কাজের অনুমতির সুযোগ ঘোষণা করেছিল। সেই উদ্যোগে প্রত্যাশার দ্বিগুণেরও বেশি সাড়া মিলেছে।

স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ১০ লাখের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে আবেদন করেছেন। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এ সুবিধা নেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীর সংখ্যা সেই হিসাবকে ছাড়িয়ে যায়

এই কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাস করেছেন অথবা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন। যোগ্য বিবেচিত হলে তারা প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এত বিপুল সংখ্যক আবেদনই প্রমাণ করে যে এমন উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল। তার মতে, অভিবাসন শুধু মানবিক নয়, দেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে অভিবাসন না থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে স্পেনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর ফলে হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, অনেক স্কুলে শিক্ষার্থী কমে যাবে এবং বিপুলসংখ্যক কৃষিখামার টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী রক্ষণশীল দল অভিযোগ করেছে, এত বড় পরিসরে বৈধতা দিলে সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থীরা দাবি করছে, এটি দেশের জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা।

এদিকে স্পেন সরকার বিরোধীদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, অভিবাসীদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা, বৈষম্য কমানো এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

একই সঙ্গে সরকার প্রায় ৫০ কোটি ইউরোর একটি নতুন "ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ" পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে নতুন বৈধ হওয়া অভিবাসীদের ভাষা শিক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মসংস্থানে সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের অভিবাসন বিতর্কের মধ্যে স্পেনের এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম। যেখানে অনেক দেশ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নীতির দিকে ঝুঁকছে, সেখানে স্পেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় অভিবাসনকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছে।