ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ব্রিটেনে শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থায়
লন্ডন, ২৯ জুন:
যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য আবারও সামনে এসেছে একটি নতুন তদন্তে। জানা গেছে, শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের একটি বড় অংশ স্কুলের ভেতরেই পিছিয়ে পড়ছে এবং তাদের সাফল্যের হার তুলনামূলকভাবে কম।
তদন্তে দেখা গেছে, ফ্রি স্কুল মিল (Free School Meals) পাওয়া শিক্ষার্থীরা, যারা মূলত নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান, ইংরেজি ও গণিতে GCSE পরীক্ষায় পাস করার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যায়। অর্থাৎ, আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের সাফল্য ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের শিক্ষাগত ফলাফল বিশেষভাবে দুর্বল। যদিও ফ্রি স্কুল মিল পাওয়া সব শিক্ষার্থীর মধ্যেই ফলাফলের ঘাটতি রয়েছে, তবে এই গোষ্ঠীর মধ্যে সমস্যা আরও বেশি গভীর।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত সক্ষমতার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, সুযোগের অভাব এবং স্কুল ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার ফল।
তদন্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো GCSE পরীক্ষার ফলাফল। ইংরেজি ও গণিতে পাসের হার নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক কম।
এই দুটি বিষয় ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই দুর্বল ফলাফল তাদের জীবনের সুযোগকে সরাসরি সীমিত করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন—
নিম্ন আয়ের পরিবারে অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তার অভাব, স্কুলে শিক্ষক ও সম্পদের ঘাটতি, বড় ক্লাস সাইজ এবং বাড়িতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ না থাকা অন্যতম প্রধান কারণ।
এছাড়া কিছু অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতাও শিক্ষার্থীদের প্রেরণাকে প্রভাবিত করছে।
এই তদন্ত প্রকাশের পর শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সমান সুযোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে বৈষম্য রয়ে গেছে।
এখন দাবি উঠছে পিছিয়ে পড়া এলাকার স্কুলগুলোর জন্য বাড়তি ফান্ডিং ও বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালুর।
এই প্রতিবেদন আবারও প্রশ্ন তুলছে—যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা কি সত্যিই সমতা নিশ্চিত করতে পারছে, নাকি এটি বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্যকেই আরও বাড়িয়ে তুলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার সমাধান না হলে শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের জন্য ভবিষ্যতে সুযোগ আরও সীমিত হয়ে যাবে, যা পুরো সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।