ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
টনপ্রতি ২৪ ডলার বেশি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গম কিনছে বাংলাদেশ
ঢাকা প্রতিনিধি, ২ জুলাই: আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় প্রতি টনে প্রায় ২৪ ডলার বেশি খরচ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে এই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রীয় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের করের অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে। প্রতি টন গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২২ মার্কিন ডলার।
একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে প্রতি টনের দাম প্রায় ২৯৮ ডলার। ফলে জি-টু-জি চুক্তির গম আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় টনপ্রতি প্রায় ২৪ ডলার বেশি দামে কিনছে বাংলাদেশ।
এই হিসাবে, শুধু ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানিতেই অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫.২৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৪ কোটি টাকা, ডলার প্রতি ১২২ টাকা ধরে)।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৭ লাখ টন মার্কিন গম আমদানি করতে পারবে।
এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৬.৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০৫ কোটি টাকা)। আর পাঁচ বছরে মোট অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৮৪ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,০২৫ কোটি টাকা (১.০২৫ বিলিয়ন টাকা)।
সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমের মান তুলনামূলকভাবে উন্নত—নির্ধারিত প্রোটিন মানের চেয়েও বেশি প্রোটিন পাওয়া গেছে এবং শস্যের গুণগত মানও সন্তোষজনক।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলেও এর চাপ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাজেট ও জনগণের করের অর্থের ওপরই পড়ে।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের আরেকটি অংশ সতর্ক করে বলছে, শুধু গম আমদানিতেই যদি আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় প্রতি টনে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যয়চাপ তৈরি হতে পারে—যা সাধারণ মানুষের কাছে পুরো চিত্রে অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে।
তাদের মতে, এভাবে ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত ব্যয় চলতে থাকলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য চাপের মুখে পড়তে পারে। আমদানিনির্ভর ব্যয়নীতি দীর্ঘ হলে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে সরকারের অবস্থান, এসব সিদ্ধান্ত কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বার্থেই ভূমিকা রাখবে।