ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
গৃহহীনতার জন্য মানুষকে দোষ নয়, দায় কাঠামোর: প্রিন্স উইলিয়াম
লন্ডন, ৩০ জুন:
যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স উইলিয়াম। তিনি বলেছেন, গৃহহীন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করা ঠিক নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে “সিস্টেমিক ফেইলিউর” বা কাঠামোগত ব্যর্থতা।

গৃহহীনতা বিষয়ক তাঁর উদ্যোগ “Homewards”–এর তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মতে, সমাজে এখনো ভুল ধারণা রয়েছে যে গৃহহীনতা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা ব্যর্থতার ফল। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে বাসস্থান সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার দুর্বলতা।
তিনি আরও বলেন, গৃহহীনতা একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যা শুধু সহানুভূতি দিয়ে নয়, নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে গত কয়েক বছরে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। বিশেষ করে লন্ডনসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধির চাপ, নিম্ন আয়ের মানুষের উপর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, এবং সামাজিক হাউজিংয়ের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল জায়গা হলো “অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং” বা সাশ্রয়ী বাসস্থানের অভাব। একই সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর বাজেট সংকোচন অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করেছে।

গৃহহীনতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিভাজন রয়েছে। একদিকে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে “নিজের দায় নিজের” ধরনের কঠোর মনোভাব। প্রিন্স উইলিয়ামের বক্তব্য এই দ্বিতীয় অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
তিনি মনে করেন, যতদিন মানুষ গৃহহীনদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করবে, ততদিন কোনো নীতি বা প্রকল্পই পুরোপুরি সফল হবে না। কারণ সামাজিক কলঙ্ক (stigma) অনেক সময় পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
Homewards প্রকল্পের লক্ষ্য স্থানীয় প্রশাসন, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে এনে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরি করা। তবে সমালোচকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া এর প্রভাব সীমিত থাকবে।
প্রিন্স উইলিয়ামের সাম্প্রতিক বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—গৃহহীনতা শুধু একটি সামাজিক দৃশ্যমান সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গভীর প্রশ্নও বটে। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সমাধানের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে হবে।