নারী ইস্যুতে জামায়াতের বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক, নির্বাচনী রাজনীতিতে উত্তাপ
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৩ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নারী অধিকার ও নারীর ভূমিকা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক দেশের রাজনীতিতে বড় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাদের একের পর এক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই ইস্যু এখন নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।
গত শনিবার জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নেতৃত্ব ও কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে বলা হয়, নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত নয় এবং জামায়াতে তা সম্ভব নয়। আরও বলা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের ঘরের বাইরে বের করা হলে তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে। এই বক্তব্যকে নারী বিদ্বেষী উল্লেখ করে সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়। নারী শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু হাতে প্রতিবাদ করেন, ছাত্র সংগঠনগুলো কর্মসূচি দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর জামায়াত দাবি করে, আমীরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং দলের কেউ ওই পোস্ট দেয়নি। তবে পোস্ট দেওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর এ বিষয়ে দলীয়ভাবে জানানোয় অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। রোববার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটি ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, কোনো ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুত জনগণকে জানানো উচিত ছিল। সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর হ্যাকের দাবি তোলায় বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নারী ইস্যুতে এটি জামায়াতের প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগে কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়ে বক্তব্য এবং বরগুনার পাথরঘাটায় জেলা জামায়াতের এক নেতার ডাকসুকে ‘বেশ্যাখানা’ বলা নিয়েও দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে, জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে বিশেষ প্রচারণা চালাচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে নারী কর্মীদের মাধ্যমে ভোট চাইছে, নারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ‘বেহেশতে যাওয়া যাবে’—এমন কথাও প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—নারীদের নিয়ে জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য কি নিছক নির্বাচনী কৌশল, নাকি দলটির প্রকৃত অবস্থানেরই প্রকাশ?
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান জনসভায় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা দেশের নারীদের সম্মান করতে জানে না, তারা আবার ইসলাম কায়েমের কথা বলে এবং নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ইস্যু ঘিরে এই বিতর্ক নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর করছে। কোন দল নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিতে পারে, তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।