ভোটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ: ঝুলন্ত সংসদ নাকি নতুন সরকার?
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্নের শেষ নেই—নির্বাচিত এমপিদের শপথ কারা পড়াবেন, বিদায়ী সংসদের স্পিকার কোথায় থাকবেন, এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য কী হবে। সবকিছুর জবাব এখনও অনিশ্চয়।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আগস্ট ২০২৪-এ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে এবারের ভোটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলো বিএনপি ও জামায়াত। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ১৫১টি আসন দরকার। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ঝুলন্ত সংসদের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ঝুলন্ত সংসদে সরকার গঠন করতে হলে বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা বা জোট প্রয়োজন।
গণভোট ও জুলাই সনদ
নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোট হবে। আলাদা ব্যালটে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। ‘হ্যাঁ’ জিতলে আগামী সংসদে ৮৪টি ধারা কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন
-
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (উচ্চকক্ষ ১০০ আসন)
-
নারীর সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি ৫০ থেকে ১০০
-
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন
-
প্রধান বিচারপতি, স্বায়ত্তশাসিত কমিশন ও সরকারি নিয়োগে সংস্কার
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সরকার গঠন
নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলের আস্থা থাকলেও ফলাফল ও নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে দেশের জন্য গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পথ খুলবে।