‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

এক রাতেই চার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল

এক রাতেই চার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৪ অক্টোবর :


এক রাতেই পরপর কয়েক দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা। শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অন্তত চারটি ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কম্পন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা ১২ মিনিটের দিকে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর এক মিনিট পর ভারতের মিজোরামের লুংলেই এলাকায় প্রায় ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় কম্পনের প্রভাব চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়।

এরপর রাত ১টা ২৭ মিনিটের দিকে ভারতের ত্রিপুরার ধলাই এলাকায় ৩.৮ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। এর হালকা কম্পন ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এরপর ভোরের দিকে আরও একটি ভূমিকম্পের তথ্য আসে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের ম্রাউক-উ এলাকায় ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ঢাকার আগারগাঁওয়ের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৪৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বলে জানানো হয়েছে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব কম্পনে বড় ধরনের ভবনধস, হতাহত বা উল্লেখযোগ্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে একই অঞ্চলে পরপর কম্পন হওয়া মানেই বড় ভূমিকম্প আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশের আশপাশের ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।