নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
ভয়েস অব পিপল লন্ডন /বিশেষ প্রতিবেদন, ৪ ফেব্রুয়ারি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ভেতরে–বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে “সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ সাম্প্রতিক জনমত জরিপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে এ মন্তব্য করেছে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’
বুধবার প্রকাশিত “An Interview with Tarique Rahman – Likely Bangladesh’s Next Prime Minister” শীর্ষক প্রতিবেদনে দ্য ডিপ্লোম্যাট জানায়—
- ডিসেম্বরের জনমত জরিপে বিএনপির প্রতি সমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ
- নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১৯ শতাংশ
- ইনোভেশন কনসালটিংয়ের জরিপে ৪৭% মানুষ মনে করেন, তারেক রহমানই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
- ২২.৫% ভোটার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে জেন-জি ভোটাররা (তরুণ প্রজন্ম) বড় ভূমিকা রাখবে। তরুণদের একটি বড় অংশ বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, বিশেষ করে যেসব কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।
সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের দুটি নির্বাচনি সমাবেশের পথে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান—
- তরুণদের চিন্তাধারার সঙ্গে তারা নিজেদের যুক্ত করছেন
- পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা হবে
- অর্থনীতিনির্ভর কূটনীতি, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে
- নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা–কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে
দ্য ইকোনমিস্ট: ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান’
সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করে—
- ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি
- ২০০৮ সালের পর থেকে দেশে “প্রকৃত নির্বাচন হয়নি”
- প্রায় ৪০% ভোটার কখনো সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি
- নতুন নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী রাজধানীজুড়ে সাদা–কালো ব্যানারে প্রচারণা চলছে
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ছাত্র আন্দোলনের নেতারা একক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর জামায়াত দ্রুত সংগঠিত হলেও তাদের নীতি, নারী প্রার্থী না দেওয়া এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—
- বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
- বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
- ২০২৪ সালের বিক্ষোভে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা
- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার না করা
এক স্থানীয় বিশ্লেষকের ভাষায়, “দেশের সামনে দুটি পথ—একটি অগ্রগামী সরকার, অথবা ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকে যাওয়া একটি ব্যবস্থা।” এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে অনেকেই তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরও তত বাড়ছে। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভোটাররা—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যাদের ভোট এবার নির্ধারণ করতে পারে দেশের পরবর্তী নেতৃত্ব।