নতুন জনমত সমীক্ষায় চমক: আওয়ামী লীগ ভোটারের বড় অংশ এবার বিএনপি ও জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন

নতুন জনমত সমীক্ষায় চমক: আওয়ামী লীগ ভোটারের বড় অংশ এবার বিএনপি ও জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন

ভয়েস অব পিপল, লন্ডন | বিশেষ প্রতিবেদন, ৫ ফেব্রুয়ারি:

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এক নতুন জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে—২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের বড় অংশ এবার দলবদল করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারেন।

বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রকাশিত হয় ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক এই সমীক্ষা। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ।

আওয়ামী লীগ ভোটারদের বড় অংশের ঝোঁক বিএনপির দিকে

সমীক্ষার ফল অনুযায়ী—

  • ৪৮.২% আওয়ামী লীগ ভোটার এবার বিএনপিকে ভোট দিতে চান
  • ২৯.৯% ভোটার ঝুঁকছেন জামায়াতে ইসলামী–র দিকে
  • ৬.৫% ভোটার সমর্থন দিতে পারেন নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–কে
  • ১৩% ভোটার অন্য দলকে ভোট দিতে পারেন

এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ হওয়া এবং দলীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২২ মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ

সমীক্ষায় বলা হয়—

  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে ২২ মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ
  • দলনেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ত্যাগ করেন
  • মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করে

এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় অংশ মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী আরেক দল বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন শক্তি হিসেবে এনসিপি

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনত আবদুল্লা প্রমুখ পরে গঠন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
এবার তারা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সমীক্ষা বলছে—

  • আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৬.৫% এবার এনসিপিকে ভোট দিতে পারেন

নির্বাচন ও গণভোট—দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়সূচি—

  • মনোনয়ন জমা: ১২–২৯ ডিসেম্বর
  • যাচাই–বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি
  • আপিল নিষ্পত্তি: ১২–১৮ জানুয়ারি
  • চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
  • প্রচার শুরু: ২২ জানুয়ারি
  • প্রচার শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০