অনলাইন গেমের নেশায় নিভে গেল তিন বোনের জীবন !
ডেস্ক রিপোর্ট, ৫ ফেব্রুয়ারি: একই ঘরে বেড়ে ওঠা, একই স্কুলে পড়া, একই স্বপ্ন বোনা—তিন বোনের জীবন থেমে গেল একসঙ্গে, গভীর রাতের নীরবতায়। ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি বহুতল ভবনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তিন কিশোরী বোন। অনলাইন গেমে আসক্তি এবং সেই নেশায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।
নিহত তিন বোন হলো বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে গাজিয়াবাদের টিলা মোড় থানা এলাকার ‘ভারত সিটি’ নামের একটি আবাসিক টাউনশিপে।
পুলিশ জানায়, করোনা মহামারির সময় থেকেই তিন বোন একটি টাস্কভিত্তিক কোরিয়ান অনলাইন ‘লাভ গেম’-এ মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে ডুবে থাকত। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে যে গোসল, খাওয়া, ঘুম—সবকিছুই একসঙ্গে করত।
মেয়েদের পড়াশোনায় অনীহা ও সারাক্ষণ গেম খেলার কারণে মা–বাবা বারবার নিষেধ করছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে গেম খেলা নিয়ে পরিবারে কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছু সময় পরই তিন বোন নীরবে ফ্ল্যাটের বারান্দায় গিয়ে নবম তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়।
বিকট শব্দ শুনে নিরাপত্তারক্ষী ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
গাজিয়াবাদ পুলিশের সহকারী কমিশনার অতুল কুমার সিং জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তিন বোন নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছে। ডায়েরির কিছু নোট ও আঁকিবুঁকি থেকে জানা যায়, তারা গেমের প্রভাবে নিজেদের ‘কোরিয়ান রাজকুমারী’ হিসেবে কল্পনা করত।
পুলিশ তিন বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অনলাইন কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে পরিবার ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—শিশু ও কিশোরদের অনলাইন আসক্তি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কখনো কখনো পুরো একটি পরিবারের পৃথিবী অন্ধকার করে দিতে পারে, গাজিয়াবাদের এই তিন বোনের মৃত্যু তারই হৃদয়বিদারক উদাহরণ।