জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা করল ২৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা করল ২৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

ভয়েস অব পিপল বিশেষ সংবাদ, ৪ ফেব্রুয়ারি:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে দলটির আমির শফিকুর রহমান ৯০ পৃষ্ঠার ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনী ইশতেহার’ উপস্থাপন করেন। ইশতেহারটি ৮টি ভাগে বিন্যস্ত হলেও মূল অগ্রাধিকার হিসেবে ২৬টি দফা ঘোষণা করা হয়েছে।

নিচে পাঠকের সুবিধার্থে ২৬টি দফা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো—

২৬ দফা ইশতেহার হচ্ছে: 

১. বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন
বৈষম্যমূলক আইন ও নীতিমালা সংস্কার বা বাতিল করে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

২. সংসদে বিরোধী দলের ক্ষমতায়ন
ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে মনোনীত করা এবং স্থায়ী কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।

৩. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন
এমপিদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

৪. জুলাই ভিশনের চেতনা বাস্তবায়ন
রাষ্ট্র পরিচালনায় জুলাই বিপ্লবের ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৫. টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি গঠন
অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

৬. অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সংসদীয় বিতর্ক ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো।

৭. কৃষিতে বিপ্লব ও খাদ্য নিরাপত্তা
স্বনির্ভর কৃষি, ভেজালমুক্ত খাদ্য এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।

৮. ‘থ্রি জিরো ভিশন’ বাস্তবায়ন
২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশগত অবক্ষয়, বর্জ্য ও বন্যার ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা।

৯. সংখ্যালঘু ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব
মন্ত্রিসভায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।

১০. স্বাধীন ‘জবাবদিহি কাউন্সিল’ গঠন
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা।

১১. রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন
প্রাপ্ত ভোট ও আসনের অনুপাতে বার্ষিক বরাদ্দ প্রদান।

১২. জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গঠন
সব সরকারি দপ্তরে অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু।

১৩. ডিজিটাল ও এআই-ভিত্তিক সরকারি সেবা
হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু।

১৪. কেন্দ্রীয় ই-গভর্ন্যান্স পোর্টাল
প্রতিটি নাগরিকের জন্য ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টসহ ‘মাইগভ’-ধাঁচের সেবা।

১৫. দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা
সিসিটিভি স্থাপন, নথির ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি বাতিল।

১৬. মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও বদলি
রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার।

১৭. স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
উন্নয়ন কার্যক্রম স্থানীয় সরকারের অধীনে বাস্তবায়ন।

১৮. ন্যায়ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদার।

১৯. জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীতকরণ
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করে ধাপে ধাপে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি।

২০. মন্ত্রিসভায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

২১. নারী নিরাপত্তা উদ্যোগ
আলাদা বাস সার্ভিস, গণপরিবহনে সিসিটিভি, পৃথক কামরা ও জরুরি হেল্পলাইন চালু।

২২. মাতৃত্বকালীন কর্মঘণ্টা হ্রাস
মায়ের সম্মতিতে দৈনিক কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।

২৩. নারীদের পুনঃপ্রবেশে আজীবন শিক্ষা
কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন।

২৪. প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন
‘জনশক্তি শিল্প মন্ত্রণালয়’ নামে পুনর্গঠন এবং সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন।

২৫. স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন
শিক্ষাবিদদের নেতৃত্বে সমন্বিত শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন।

২৬. সংসদকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে পুনর্গঠন
গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, সমঝোতা ও রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে সংসদে উন্মুক্ত বিতর্ক।

এই ২৬ দফা ইশতেহারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী সুশাসন, জবাবদিহি, নারী নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।