বহিষ্কার মানেই কি বিষণ্নতা? না, ফুলবাড়ীতে হলো মিষ্টিমুখ!

বহিষ্কার মানেই কি বিষণ্নতা? না, ফুলবাড়ীতে হলো মিষ্টিমুখ!

বাংলাদেশ প্রতিনিধি:  দল থেকে বহিষ্কার হলে সাধারণত নেতাকর্মীরা চোখে জল ফেলেন, মাথায় হাত দেন, কেউ কেউ আবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হওয়ার গল্প শোনান। কিন্তু দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক বিএনপি নেতা দেখালেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রেসিপি—বহিষ্কার + হাসি + মিষ্টি!
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুল নেতা-কর্মীদের হাতে হাতে মিষ্টি তুলে দিচ্ছেন। মুখে প্রশান্ত হাসি, আচরণে যেন ঈদের আগের আনন্দ! ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় হাসি-ঠাট্টা ও নানা মন্তব্য।
এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তাঁর বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে শাহাদাত হোসেন সাহাজুলের ভাষ্য একেবারেই আলাদা। তিনি বলেন, ‘আমাকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য কেউ আহ্বান জানায়নি। তাই আমি নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংগঠনবিরোধী কোনো কাজ করিনি।’
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চলছে রসাল আলোচনা। কেউ বলছেন, ‘বহিষ্কার হলেও মনটা মিষ্টি’, কেউ আবার মন্তব্য করছেন, ‘রাজনীতিতে এখন দুঃখের খবরেও মিষ্টি খাওয়ানোর ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেল নাকি!’
সব মিলিয়ে ফুলবাড়ীর এই ঘটনা প্রমাণ করল—বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু উত্তেজনাই নয়, মাঝে মাঝে চমকপ্রদ কৌতুকও জন্ম নেয়।