‘দ্য উইকে’ ডা. শফিকুর রহমান: ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল’

‘দ্য উইকে’ ডা. শফিকুর রহমান: ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল’

ভয়েস অব পিপল, লন্ডন । বিশেষ প্রতিবেদন, ৪ ফেব্রুয়ারি: 

ভারতের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দ্য উইক–কে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাঁর দল প্রগতিশীল, মধ্যপন্থি এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের নীতি ও রাজনৈতিক কৌশলকে ক্রমাগত পরিমার্জন করে এসেছে। সাক্ষাৎকারটি আগামী রোববার ম্যাগাজিনের প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত হবে, তবে ওয়েবসাইটে এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান: ‘গণতান্ত্রিক ও জনমুখী’

দ্য উইকের দিল্লি ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজার প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন—
“জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল। আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।”

তিনি জানান, নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকলেও দলটি কখনোই গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে যায়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের আরও সংগঠিত ও কৌশলগতভাবে পরিণত করেছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ের শিক্ষা: ‘আরও শক্তিশালী সংগঠন’

২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও জামায়াত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়—

  • সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত করা হয়েছে
  • দলের শৃঙ্খলা কঠোর করা হয়েছে
  • তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর হয়েছে
  • সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে রাজনৈতিক কৌশল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে

তিনি দাবি করেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প খুঁজতে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন জামায়াতের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠনের সাফল্য দলটির প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করেছে।

জোট রাজনীতি: ‘গঠনমূলক সহযোগিতার’ বার্তা

জামায়াত ইতোমধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান—

  • তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়তে চান
  • বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ সম্ভব

জোট রাজনীতিতে তাদের তিনটি মূলনীতি—

  1. জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা
  2. দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান
  3. দেশপ্রেমিক রাজনীতি

সংখ্যালঘু ও নারী অধিকার নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার

সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন—
“জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী।”

তিনি উল্লেখ করেন—

  • দলটি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে
  • জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি
  • তবে জোটের নারী প্রার্থীদের জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের নারী জনপ্রতিনিধির উদাহরণ রয়েছে

অতীতের বিতর্ক নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা

সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান অতীতের বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন—
“১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”

দ্য উইকের এই সাক্ষাৎকারে জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা, রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী–সংখ্যালঘু ইস্যুতে দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা দলটি এখন নিজেদের ‘মধ্যপন্থি’ ও ‘প্রগতিশীল’ পরিচয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে—এ সাক্ষাৎকার সেই প্রচেষ্টারই অংশ।