বাংলাদেশে পরপর ভূমিকম্পের ধাক্কা: আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
ডেস্ক রিপোর্ট | ভয়েস অব পিপল, ৫ ফেব্রুয়ারি: মঙ্গলবার রাত। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে হঠাৎ কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি। অনেক মানুষ দৌড়ে বেরিয়ে যান রাস্তায়, কেউ কেউ ফোনে প্রিয়জনের খোঁজ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই জানা যায়—৫ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে।
এরপর আসে আরও উদ্বেগজনক খবর। মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে একই অঞ্চলে আবার ৫ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পগুলো যে ফল্ট লাইনে ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত সক্রিয়। ২০২৪ সালে একই ফল্টে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ফলে আফটারশকের বাস্তব আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্প শুধু একটি মুহূর্তের কাঁপুনি নয়, এটি আমাদের প্রস্তুতির পরীক্ষা। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত, অথচ নগরায়ন ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড মানা হচ্ছে খুব সীমিতভাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিত ভবন, সরু সড়ক ও জরুরি সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।
মঙ্গলবারের আগেও ভোরে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প আঘাত হানে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়, যা রাজধানী ঢাকা থেকেও অনুভূত হয়। পরপর এই কম্পনগুলো আমাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—প্রকৃতি সতর্ক করছে, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এর মূল্য দিতে হতে পারে ভয়াবহভাবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করা, ভারী আসবাব থেকে দূরে থাকা, নিরাপদ স্থানে মাথা ঢেকে আশ্রয় নেওয়া এবং পরে ধীরে ধীরে খোলা জায়গায় সরে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে প্রয়োজন পরিবারভিত্তিক দুর্যোগ পরিকল্পনা, স্কুল-কলেজ ও অফিসে নিয়মিত মহড়া এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই।
ভূমিকম্প ঠেকানো যায় না, কিন্তু প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক—সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। পরপর এই কম্পনগুলো যেন কেবল আতঙ্কের খবর হয়ে না থাকে, বরং হয়ে উঠুক একটি জাতীয় জাগরণের ডাক