বিএনপির না ফিরলে হুশ, এনসিপি রাজপথে নেমে করবে টাশটুশ !
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৫ এপ্রিল: রাজনীতির মঞ্চে আবারও শুরু হয়েছে ‘হুঁশ বনাম টাশটুশ’ পর্ব। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে—১০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপির ‘হুঁশ’ না ফিরলে তারা নাকি রাজপথে নেমে এমন টাশটুশ করবে, যাতে রাজনীতি আর টকশো—দুটোই কেঁপে ওঠে!
রোববার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বেশ ক্ষোভের সুরে বলেন, বিএনপি নাকি এখন শুধু সেইসব অধ্যাদেশই পছন্দ করছে, যেগুলোতে ক্ষমতা বাড়ে; আর যেগুলোতে জবাবদিহিতা থাকে, সেগুলো দেখলেই নাকি তাদের ‘অ্যালার্জি’ হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির মধ্যে ‘স্বৈরাচারের সব লক্ষণ’ এখন চোখে পড়ছে। তবে লক্ষণ দেখা আর রোগ ধরা—দুটো এক জিনিস নয়, সেটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এনসিপির বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বলেছে সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু সেই ‘হ্যাঁ’-কে ‘না’ বানানোর চেষ্টা চলছে বলে তাদের অভিযোগ। আর তাই, তারা বলছে—“আপনারা যদি হুঁশে না ফেরেন, আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—জনগণ কি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, নাকি নিজেরাই পরিস্থিতি বুঝে বসে আছে?
সংবাদ সম্মেলনে আরেক নেতা সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, বিএনপি একদিকে প্রশাসক বসাচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে করছে ‘চোখ বন্ধ খেলা’। তার ভাষায়, “গণতন্ত্র এখন অন্ধকার সময় পার করছে”—যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, এই অন্ধকারে কার হাতে টর্চ আছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে, এনসিপি বলছে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজপথ এমনিতেই এতদিনে ‘ফুলটাইম ব্যস্ত’—এখানে নতুন করে আর কতটা টাশটুশ করা যাবে, সেটাই দেখার বিষয়।
সব মিলিয়ে, একপক্ষ বলছে “হুঁশে আসুন”, আরেকপক্ষ হয়তো ভাবছে “সময় হলে দেখা যাবে”—আর সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে আছে মাঝখানে, মনে মনে বলছে, “টাশটুশ কম করে একটু কাজকর্ম করলে কেমন হয়!”
পূর্ববর্তী সংবাদ