‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
অভিবাসী শনাক্তে মুখের ছবি ব্যবহার করবে ব্রিটেন, বাড়ছে নজরদারির পরিধি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৫ নভেম্বর :
যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কারযোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন বা সরাসরি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে রাস্তাঘাট, পরিবহনকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে ক্যামেরায় ধারণ করা মানুষের মুখের সঙ্গে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকার ছবি মিলিয়ে দেখা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোম অফিস অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে প্রযুক্তিটির বিস্তৃত প্রয়োগের দিকে এগোচ্ছে। এর আগে হলিহেড বন্দরে এ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় পরিবহনকেন্দ্র ও ব্যস্ত জনসমাগমস্থলেও ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ক্যামেরায় ধারণ করা মানুষের মুখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। এরপর সেই ছবি কর্তৃপক্ষের আগে থেকে নির্ধারিত ওয়াচলিস্টের ব্যক্তিদের ছবির সঙ্গে তুলনা করে। সম্ভাব্য মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রযুক্তি নিজে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কর্মকর্তাদের যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি মূলত বহিষ্কারাদেশ থাকা ব্যক্তি, অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আইনি কারণে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের খোঁজে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ব্যবহারের কথা।
হোম অফিসের দাবি, এর মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারবে এবং বাড়ি বা কর্মস্থলে বারবার অভিযান চালানোর প্রয়োজন কমতে পারে।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিগত ভুল শনাক্তকরণ, জাতিগত বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মুখ শনাক্তের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য এ পরিবর্তনটি জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি জটিলতা রয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা বহিষ্কারাদেশ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্রিটেনে বসবাসরত প্রত্যেক বাংলাদেশি, বৈধ ভিসাধারী কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সাধারণভাবে সবাইকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ওয়াচলিস্টে রাখা হচ্ছে—এমন কোনো তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা স্বচ্ছভাবে হবে, ভুল শনাক্ত হলে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য কত দিন সংরক্ষণ করা হবে—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ব্রিটিশ সরকারের সামনে এখন অভিবাসন আইন কার্যকর করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, তথ্যের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।