তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ব্রিটেনে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করলেই শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচিতে পাঠানো যাবে না, শিক্ষকদের নতুন নির্দেশনা

ব্রিটেনে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করলেই শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচিতে পাঠানো যাবে না, শিক্ষকদের নতুন নির্দেশনা

ভয়েস অব পিপল লন্ডন ডেস্ক, ৫ নভেম্বর :

ব্রিটেনের স্কুলগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী ইহুদিবিদ্বেষী (অ্যান্টি-সেমিটিক) মন্তব্য বা আচরণ করলেই তাকে সরাসরি সরকারের সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ কর্মসূচি ‘প্রিভেন্ট’-এ (Prevent) পাঠানো যাবে না। শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনায় সরকার স্পষ্ট করেছে, শুধু ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করাই প্রিভেন্ট কর্মসূচিতে রেফার করার যথেষ্ট কারণ নয়। তবে ওই আচরণের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়া বা উগ্রবাদে সমর্থনের ঝুঁকি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষ নিজে থেকেই প্রিভেন্টের আওতাভুক্ত কোনো বিষয় নয়। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ছে কি না কিংবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার দিকে এগোচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করা।

নির্দেশনায় শিক্ষকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও আচরণ মূল্যায়নের সময় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। শুধু কোনো শিক্ষার্থীর ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের ভিত্তিতে তাকে সন্ত্রাসবাদে জড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

তবে কোনো শিক্ষার্থীর ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে উগ্রবাদী মতাদর্শ, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন কিংবা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার লক্ষণ পাওয়া গেলে প্রিভেন্টে রেফার করা যেতে পারে।

সরকারের এই নির্দেশনা নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ মোকাবিলায় এমন পৃথক ব্যাখ্যা বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের অবস্থান হলো, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, তবে প্রতিটি ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রবাদের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে স্যার ডেভিড বেলের নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সরকার। এতে বলা হয়, ইংল্যান্ডের স্কুল ও কলেজগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। প্রতিবেদনে ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী তিন-পঞ্চমাংশ ইহুদি শিক্ষার্থী ইহুদিবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছে অথবা এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বলে উঠে আসে।

শিক্ষা সচিব লুসি পাওয়েল ওই পর্যালোচনার ২৭টি সুপারিশই গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা শনাক্ত ও নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সরকার আরও স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেই তা ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে ইহুদিদের সামগ্রিকভাবে দায়ী করা, ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার কিংবা ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ অবশ্যই চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করতে হবে।

প্রিভেন্ট কী?

প্রিভেন্ট ব্রিটিশ সরকারের সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ কৌশলের একটি অংশ। এর লক্ষ্য হলো, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ার আগেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। কোনো শিক্ষার্থীকে প্রিভেন্টে রেফার করা মানেই তাকে অপরাধী ঘোষণা করা নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার পরিস্থিতি ও ঝুঁকি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন নির্দেশনায় মূলত দুটি বিষয় আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—ইহুদিবিদ্বেষ একটি সামাজিক ও বর্ণবাদী সমস্যা, আর সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি একটি পৃথক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়। তবে কোনো ক্ষেত্রে দুটি বিষয় একসঙ্গে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও বহাল রয়েছে।