তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
৫ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসায় ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী, সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন !
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৬ নভেম্বর:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি। প্রতিষ্ঠানটিতে একসময় নিয়মিত শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে মাত্র পাঁচজন। বিপরীতে কর্মরত ছিলেন ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী। এ নিয়ে সরকারি অর্থের ব্যবহার, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও শিক্ষা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মাদ্রাসাটির নাম পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা। এটি বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে অবস্থিত।
২০২৬ সালের ১৮ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন থাকলেও উপস্থিত শিক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচজন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুজন। পঞ্চম শ্রেণির ওপরের কোনো শিক্ষার্থী সেদিন উপস্থিত ছিল না। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন মোট ১৭ জন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির পেছনে প্রতি মাসে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাসিক সরকারি ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পরিচালনা কমিটির সভাপতির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন বলে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে সভাপতির পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নূরজাহান রাঢ়ী ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, কয়েকটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এবং বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা সন্তানদের এখানে ভর্তি করতে আগ্রহী হন না। ফলে শিক্ষার্থী সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনে উন্নীত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ১৯ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ কী? সরকারি অর্থে পরিচালিত এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পাঠদান, শিক্ষার্থী নিবন্ধন এবং বেতন-ভাতার হিসাব যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিক্ষার নামে সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।