ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
‘যেকোনো মূল্যে’ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ নভেম্বর :
যেকোনো মূল্যে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, কারাবাস, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এপি জানায়, শেখ হাসিনা বলেছেন, “মৃত্যু যদি আমার নিয়তি হয়, তবে নিজের দেশের মাটিতে, নিজের মানুষের মধ্যে মরতে চাই।” তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে দূর থেকে কষ্ট পেতে দেখে বাকি জীবন কাটাতে পারবেন না।
তবে বাংলাদেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ, সময় কিংবা কীভাবে তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি শেখ হাসিনা।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি।
শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ হাজার নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, হাজার হাজার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেকে বাড়িঘর, ব্যবসা ও জীবিকা হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, দেশে বর্তমানে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই এবং আওয়ামী লীগকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।
এদিকে, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এখনো নিষিদ্ধ। দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন অথবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে বর্তমান সরকার বলছে, গ্রেপ্তারগুলো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ছে বলে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ উগ্রপন্থীদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
দেশে ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো বিদেশি শক্তির সহায়তা প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজের দেশে ফেরার জন্য কোনো বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ তাঁর দরকার নেই।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছিল এপি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কার্যালয় থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।