সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও কম্পন—জনগণের করণীয় কী?
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৬ ফেব্রুয়ারি:
ভারতের হিমালয়কন্যা সিকিমে গত কয়েক ঘণ্টায় একের পর ভূমিকম্প হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অন্তত আট থেকে দশবার কম্পন অনুভূত হয় গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকায়। সিকিমের এই ধারাবাহিক ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।
রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৬। এরপর রাত ২টা ২০ মিনিটে ৪.৪ এবং ভোর ৩টা ১১ মিনিটে ৪.০ মাত্রার আরও দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত আরও কয়েকটি ছোট আফটারশক হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)।
ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার, যা অত্যন্ত অগভীর। ফলে কম্পন দূরবর্তী এলাকাতেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
বাংলাদেশের রংপুর, নীলফামারী, রাজশাহী, নওগাঁ, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে মাঝারি মাত্রার কম্পন টের পাওয়া যায়। রাতের অপ্রস্তুত সময়ে কম্পন শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। বড় ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক। তবে অগভীর ভূমিকম্প হলে কম্পন বেশি অনুভূত হয় এবং ক্ষতির ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে।
বাংলাদেশের জনগণের করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতিই জীবন বাঁচায়। উত্তরাঞ্চলে কম্পন অনুভূত হওয়ায় সতর্ক থাকা জরুরি।
১) ভূমিকম্পের সময় কী করবেন
- ঘরের ভেতরে থাকলে টেবিল বা মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন
- জানালা, কাচ, আলমারি বা ভারী জিনিসের কাছ থেকে দূরে থাকুন
- লিফট ব্যবহার করবেন না
- বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় চলে যান
২) আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন
- জরুরি ব্যাগে পানি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন
- পরিবারের সবাইকে ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে তা শিখিয়ে রাখুন
- ঘরের ভারী জিনিসগুলো দেয়ালে শক্তভাবে আটকানো আছে কিনা নিশ্চিত করুন
৩) গুজব নয়, সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন
- আবহাওয়া অধিদপ্তর
- আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা
- স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা
সিকিমের ধারাবাহিক ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলের সক্রিয় ফল্ট লাইন ভবিষ্যতে আরও বড় কম্পনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই বাংলাদেশেও সতর্কতা ও প্রস্তুতি জরুরি।