বাংলাদেশ সংবাদ

অপ্রতিম হত্যায় গ্রেপ্তারদের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপ্রতিম হত্যায় গ্রেপ্তারদের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২১ সেপ্টেম্বর :

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয়, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, জড়িত কিশোররা অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। তাদের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ বছর বেশি।

রোববার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। তবে বয়সের বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে; গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী।

পুলিশের হাতে প্রথমে তিন কিশোর

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা যায়। পরে তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আইফোন উদ্ধার করা হয়।

তবে পরবর্তী পুলিশি ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মামলায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুহিনের জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ এবং পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়।

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় হামলা

পুলিশ সুপারের ব্রিফিং অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোন নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশের দাবি, এরপর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি স্থানে আইফোন খোঁজা হয়। পরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফেরেনি অপ্রতিম

গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে নিখোঁজ হয়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলছে। উদ্ধার হওয়া মুঠোফোনসহ বিভিন্ন আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন। তাদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ফলে পুলিশের বক্তব্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য হিসেবে বিবেচনা করেই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।