বাংলাদেশ সংবাদ
গত দুদিন ধরে ঢাকায় একের পর এক অগ্নিকান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২১ সেপ্টেম্বর :
রাজধানী ঢাকায় মাত্র দুই দিনে একের পর এক যানবাহনে আগুনের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ২০ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানী ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অন্তত সাতটি যানবাহন ও ট্রেনের বগিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চারটি বাস ও একটি পিকআপে আগুনের ঘটনা ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে। পরদিন পল্লবীতে আরও একটি বাস এবং রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন লাগে।
মিরপুর-১ : ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর মোড়ে অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একটি আসন পুড়ে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
পল্লবী ১১ নম্বর : প্রায় একই সময়ে পল্লবীর ১১ নম্বরে শিকড় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মধ্য বাড্ডা : রাত পৌনে ৮টার দিকে বাড্ডা ইউলুপের নিচে একটি ওয়ার্কশপে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন দেওয়া হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মাতুয়াইল : রাত ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ : রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
পল্লবীর সিরামিক রোড : ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সরকারি কলেজের পাশে পার্কিং করে রাখা পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮৭০৩। পুলিশ জানিয়েছে, কারা আগুন দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে বাসটির মালিক জানিয়েছেন।
কমলাপুর রেলস্টেশন : একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৯টা ৫২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রেনটি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি নাশকতা কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
দুই দিনের ঘটনাগুলোতে মিরপুর, পল্লবী, বাড্ডা, মাতুয়াইল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও কমলাপুর—রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে ৩৪০টি চেকপোস্ট বসানোর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
তবে সব ঘটনাকে একই ধরনের অগ্নিসংযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিছু ঘটনায় পুলিশ সরাসরি আগুন দেওয়ার চেষ্টা বা অগ্নিসংযোগের কথা জানিয়েছে; অন্যদিকে কমলাপুরের হাওর এক্সপ্রেসে আগুন লাগার কারণ তখনও তদন্তাধীন ছিল। তাই দুই দিনে সাতটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সবগুলোই নাশকতা—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।