বাংলাদেশ সংবাদ
আট মাসে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২১ সেপ্টেম্বর :
দেশে শিশু নিখোঁজের পর তাদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট—প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী, ডোবা বা অন্য স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে।
আসকের পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ১৫৫ শিশুর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ২৬ শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা, গুলিতে মৃত্যু, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে মৃত্যু, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা এবং অপহরণের পর হত্যার ঘটনাও রয়েছে।
শুধু হত্যাকাণ্ড বা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও বড়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজের এই পরিসংখ্যান জিডিভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ে তথ্য হালনাগাদ হওয়ায় সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে।
শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের একটি অংশকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও, ৩৬ শিশুর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত মিলেছে মরদেহ। ফলে শিশুদের নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনা দ্রুত তদন্ত, পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় এবং উদ্ধার তৎপরতার আওতায় আনার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আসকও শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।