ব্রিটেন সংবাদ
ব্রিটেনে সন্তান অপরাধ করলে অভিভাবকের বেনিফিটও কাটতে পারে
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২১ সেপ্টেম্বর:
সন্তান অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এবার শুধু সন্তানের নয়, অভিভাবকের ওপরও আইনি দায় চাপানোর পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সরকার। সন্তানের অপরাধ ঠেকাতে অভিভাবক যথাযথ দায়িত্ব পালন না করলে আদালতের মাধ্যমে তাদের বেনিফিট কমানো, জরিমানা এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ড দেওয়ার পথও খোলা হতে পারে।
ব্রিটেনের যুব বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেক রিচার্ডস বলেছেন, তরুণদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। এ জন্য বর্তমানে থাকা ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ আরও শক্তিশালী ও ব্যাপক করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বর্তমান ব্যবস্থায় আদালত কোনো শিশুর আচরণ সংশোধনে অভিভাবককে কাউন্সেলিং, নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা আবাসিক কোর্সে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনে এর সঙ্গে আরও কঠোর ব্যবস্থা যুক্ত হতে পারে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী আদালত অভিভাবকের বেনিফিট কমানোর নির্দেশ দিতে পারে। অত্যন্ত গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে কারাদণ্ড হবে শুধু সবচেয়ে চরম পরিস্থিতিতে এবং সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারক।
সরকারের যুক্তি, সন্তান অপরাধে জড়িয়ে পড়লে পরিবারকে শুধু সহায়তা দিলেই হবে না, অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের ভাষায়, এটি হবে এক ধরনের ‘গাজর ও লাঠি’ পদ্ধতি—একদিকে পরিবারকে সহায়তা, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তি।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধবিজ্ঞান ও শিশু আচরণ নিয়ে কাজ করা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা বা আর্থিক চাপ দিলে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও সংকটে পড়তে পারে। শিশুদের অপরাধ কমাতে আগের ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনই কোনো শিশুর অপরাধের কারণে তার বাবা-মায়ের বেনিফিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। এটি সরকারের প্রস্তাবিত কঠোর ব্যবস্থার অংশ এবং বাস্তবে প্রয়োগ হলে আদালতের সিদ্ধান্ত ও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তা কার্যকর হওয়ার কথা।
ব্রিটেনে শিশুদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিবারকে আরও সরাসরি আইনি জবাবদিহির মধ্যে আনার এই উদ্যোগ এখন নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে—সন্তানের অপরাধের দায় কতটা অভিভাবকের ওপর বর্তাবে, আর শাস্তির মাধ্যমে পরিবারকে দায়িত্বশীল করা কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।