তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ব্রিটেনে Jobcentre থেকেই এখন বিনামূল্যে ক্যারিয়ার পরামর্শ

ব্রিটেনে Jobcentre থেকেই এখন বিনামূল্যে ক্যারিয়ার পরামর্শ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ অক্টোবর :

ইংল্যান্ডে চাকরি খোঁজা, পেশা পরিবর্তন, নতুন দক্ষতা অর্জন কিংবা কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এখন থেকে Jobcentre থেকেই বিনামূল্যে ক্যারিয়ার পরামর্শ পাওয়া যাবে। নতুন এই ব্যবস্থায় চাকরি খোঁজার সহায়তা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনাকে একই জায়গায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

এটি শুধু বেকার বা কোনো সরকারি ভাতা নেওয়া মানুষের জন্য নয়। ইংল্যান্ডে যে কেউ এই ক্যারিয়ার সহায়তা নিতে পারবেন, তিনি বর্তমানে চাকরিতে থাকলেও। অনলাইনে, ফোনে এবং সরাসরি Jobcentre-এ গিয়ে এই সেবা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে Jobcentre-এ সরাসরি সাক্ষাতের ব্যবস্থা চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে?

নতুন ব্যবস্থার আওতায় একজন মানুষ তার বর্তমান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কোন ধরনের কাজ তার জন্য উপযুক্ত হতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন। নতুন পেশায় যেতে চাইলে কোন দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, কোথায় প্রশিক্ষণ পাওয়া যেতে পারে এবং কীভাবে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়—এসব বিষয়েও সহায়তা থাকবে।

চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে সিভি তৈরি বা উন্নত করা, চাকরির আবেদনপত্র পূরণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো সহায়তাও পাওয়া যাবে।

অর্থাৎ কেউ যদি দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে থাকার পর অন্য পেশায় যেতে চান, কিংবা নিজের আয় ও কর্মজীবনের সুযোগ বাড়াতে নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করতে চান, তার জন্যও এই সেবা কাজে লাগতে পারে।

৫০০ ক্যারিয়ার পরামর্শদাতা যুক্ত হচ্ছেন

সরকার জানিয়েছে, প্রায় ৫০০ জন যোগ্যতাসম্পন্ন ক্যারিয়ার পরামর্শদাতা Department for Work and Pensions বা DWP-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আগে National Careers Service-এর মাধ্যমে যে ধরনের ক্যারিয়ার সহায়তা দেওয়া হতো, সেটিকে এখন DWP-এর কর্মসংস্থান সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

এর ফলে সরকার আশা করছে, একজন মানুষকে চাকরি খোঁজার জন্য এক জায়গায় এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য আরেক জায়গায় যেতে হবে না। একই ব্যবস্থার মধ্যে চাকরি, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তরুণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব

নতুন ব্যবস্থায় যাদের চাকরি বা প্রশিক্ষণে ঢোকার ক্ষেত্রে বেশি বাধা রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষায়িত সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী, ১৮ বছরের কম বয়সী যারা স্কুল বা কলেজে নেই এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে যারা কর্মজীবনে সমস্যার মুখে পড়ছেন, তাদের জন্যও সরকারের কর্মসংস্থান সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফোন ও অনলাইনেও পাওয়া যাবে

এই সেবা নিতে চাইলে সরাসরি Jobcentre-এ যাওয়াই একমাত্র পথ নয়। অনলাইনে ক্যারিয়ার তথ্য ও পরামর্শ নেওয়া যাবে। এছাড়া 0800 072 0288 নম্বরে বিনামূল্যে ফোন করেও সহায়তা নেওয়া যাবে।

সরকার একই সঙ্গে নতুন Jobs and Careers Service গড়ে তুলছে। এর অংশ হিসেবে ‘Work Hub’ নামে একটি এআইভিত্তিক সহায়ক ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে, যেখানে চাকরি খোঁজা, আবেদন করা ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন নিয়ে ২৪ ঘণ্টা পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সরকারের লক্ষ্য, চাকরি হারানোর পর শুধু নতুন একটি চাকরি খুঁজে দেওয়া নয়; বরং একজন মানুষকে তার দক্ষতা, আগ্রহ ও স্থানীয় চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের পথ তৈরি করতে সাহায্য করা।

বর্তমান সময়ে চাকরির বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে এবং প্রযুক্তির কারণে অনেক পেশার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে নতুন এই উদ্যোগটি শুধু বেকারদের জন্য নয়, চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদেরও ভবিষ্যতের জন্য নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।