‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

এনএইচ-এ এআই ব্যবহারে বড় পরিবর্তন, ৪৪টি সুপারিশই গ্রহণ করল ব্রিটেন

এনএইচ-এ  এআই ব্যবহারে বড় পরিবর্তন, ৪৪টি সুপারিশই গ্রহণ করল ব্রিটেন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ অক্টোবর :

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে দিল সরকার। স্বাস্থ্যসেবায় এআই কীভাবে তৈরি, পরীক্ষা, অনুমোদন ও ব্যবহারের পর নজরদারি করা হবে—এ বিষয়ে একটি স্বাধীন কমিশনের দেওয়া ৪৪টি সুপারিশই গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো, এআই প্রযুক্তির সুবিধা NHS রোগীরা পাবেন, কিন্তু প্রযুক্তির কারণে রোগীর নিরাপত্তা যেন কোনোভাবেই ঝুঁকিতে না পড়ে।

এতদিন কোনো এআই-ভিত্তিক চিকিৎসা যন্ত্র অনুমোদনের আগে সেটি নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। নতুন ব্যবস্থায় নজরদারি শুধু অনুমোদনের সময়েই শেষ হবে না। NHS-এ ব্যবহারের পরও এআই কীভাবে কাজ করছে, তার ফলাফল বদলাচ্ছে কি না এবং রোগীর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না—সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ জন্য ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা MHRA তার ‘AI Airlock’ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপ শুরু করেছে। এটি এক ধরনের পরীক্ষামূলক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, যেখানে এআই-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে বাস্তব ব্যবহারের আগে ও ব্যবহারের পরিবেশে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। নতুন ধাপে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারের পর তার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের ওপর।

সরকার জানিয়েছে, রোগীর চিকিৎসায় এআই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং তাদের সিদ্ধান্তকে সহায়তা করার প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোনো সমস্যা হলে রোগী কোথায় অভিযোগ করবেন এবং কার কাছে দায় থাকবে—সেটিও আরও পরিষ্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে প্রকাশ করার কথা। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এআই-নির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জামের পরিবর্তন ও উন্নয়ন কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, NHS-এ এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা বড়—রোগ নির্ণয় দ্রুত করা, চিকিৎসকদের প্রশাসনিক কাজ কমানো এবং রোগীর চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, রোগীর নিরাপত্তা ও মানুষের সিদ্ধান্তের গুরুত্বও তত বেশি নিশ্চিত করতে হবে।