মানব পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
লন্ডন, ৭ এপ্রিল:
মানব পাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের অভিযোগে একটি বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়, যা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা বিধিমালার আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই তালিকায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানটির নাম ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। নথিতে এর ঠিকানা হিসেবে ঢাকার বনানীর একটি বাড়ির উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ জব্দসহ একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানটি মানব পাচার সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বা রয়েছে। বিশেষভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, এই ট্রাভেল কোম্পানি প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার সেবা খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। পরে এসব বাংলাদেশি নাগরিক রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের জোরপূর্বক ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে সম্মুখসমরে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য সরকার মানব পাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে শ্রম অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।