জেট ফুয়েল সংকটে ইউরোপে চাপ: ফ্লাইট বাতিল ও বাড়তি ভাড়া

জেট ফুয়েল সংকটে ইউরোপে চাপ: ফ্লাইট বাতিল ও বাড়তি ভাড়া

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৭ এপ্রিল:

আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের তীব্র সংকট ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচলে চাপ তৈরি করছে। ফলে ফ্লাইট বাতিল, টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনো অধিকাংশ ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জেট ফুয়েল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথের জেট ফুয়েল পরিবাহিত হয়। ফলে ইউরোপে জেট ফুয়েলের দাম ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

ইউরোপ জেট ফুয়েলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। International Energy Agency সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জুনের মধ্যেই গুরুতর জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।


সংকট মোকাবেলায় বড় এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট কমানো ও সময়সূচি পরিবর্তন করছে। Lufthansa, Air France-KLM, Scandinavian Airlines এবং Turkish Airlines ইতোমধ্যে বহু রুটে ফ্লাইট কমিয়েছে।

British AirwaysVirgin Atlantic দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে জ্বালানি সারচার্জ যুক্ত করেছে। অন্যদিকে Ryanair, easyJetTUI Airways এখনো বিদ্যমান বুকিংয়ে অতিরিক্ত চার্জ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেই জ্বালানি কিনে রাখা (হেজিং) এয়ারলাইন্সগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। তবে ছোট বা দুর্বল কোম্পানিগুলোর জন্য চাপ বাড়ছে—যুক্তরাজ্যের Ascend Airways ইতোমধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করেছে।


কিছু নির্দিষ্ট রুটে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব রুটে দিনে একাধিক ফ্লাইট ছিল। তবে যাত্রীদের একই দিনে বিকল্প ফ্লাইটে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ভাড়ায়—দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটের টিকিট গত বছরের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সে জ্বালানি সংকটজনিত বাতিল সবসময় কভার নাও হতে পারে। তবে প্যাকেজ হলিডে বুকিংয়ে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়, যেখানে পুরো যাত্রার দায়িত্ব থাকে ট্যুর অপারেটরের ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্য বা ইইউ-ভিত্তিক এয়ারলাইন্সে বুকিং, নিয়মিত আপডেট পর্যবেক্ষণ এবং নমনীয় ভ্রমণ পরিকল্পনা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেজ হলিডে বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে।

জেট ফুয়েল সংকট এখনো বড় ধরনের বিমান বিপর্যয় তৈরি না করলেও ইউরোপের আকাশপথে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।