দানবাক্সে টাকার সঙ্গে মিলল এক ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন
২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখতে আল্লাহর কাছে আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৮ জুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে সাধারণত কোটি কোটি টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি নানা ধরনের মানত ও প্রার্থনার চিঠি পাওয়া যায়। তবে এবার সেই চিঠিগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ বার্তা সবার দৃষ্টি কেড়েছে। সেখানে একজন অজ্ঞাতনামা ফুটবলপ্রেমী ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিক দোয়া ও আবেদন জানিয়েছেন।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে ছয় মাস পর মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় টাকা গণনার কাজ শুরু হলে অন্যান্য চিঠির সঙ্গে ওই ব্যতিক্রমী আবেদনপত্রটি পাওয়া যায়।
চিঠিতে লেখক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, তিনি এমন একটি দিন দেখতে চান, যেদিন লাল-সবুজের পতাকা ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আসরে উড়বে। দেশের ফুটবলের উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের সফলতা এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান কামনা করে তিনি দোয়া করেছেন। চিঠির শেষে নিজেকে তিনি পরিচয় দিয়েছেন—‘একজন স্বপ্নবাজ বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী’ হিসেবে।
মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, দানবাক্সে অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত প্রার্থনা, মানত ও আবেগঘন বার্তা নিয়মিতই পাওয়া যায়। তবে দেশের ফুটবলকে বিশ্বকাপে দেখতে চেয়ে লেখা এমন আবেদন বিরল এবং এটি উপস্থিত অনেকের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী গণনার কাজ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ দানবাক্স খোলার সময় ১১ কোটির বেশি টাকা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল। এবারও রেকর্ডসংখ্যক ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়ায় দানের পরিমাণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কোটি টাকার সেই স্তূপের মাঝেও একজন অজানা মানুষের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখার স্বপ্নের চিঠিই দিনশেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।