‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, আহত ১৬
ইউরোপ প্রতিনিধি, ৭ নভেম্বর:
পোল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর ক্রাকোর ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। আহতদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যেও একজন বিদেশি বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরভিনস্কি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক মেইন মার্কেট স্কয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে চত্বরে প্রবেশ করে চলন্ত অবস্থায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে শুরু করেন। এতে পর্যটকসহ পথচারীরা হতাহত হন।

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে হামলাকারী গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁকে আটক করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর গাড়ি থেকে আরও কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারী একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা। তাঁর বয়স ২৫ বছর এবং তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরভিনস্কি জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির মধ্যে উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের প্রতি আগ্রহ এবং চরম জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার প্রভাব ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক রাজধানী ওয়ারশ থেকে ক্রাকোর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ হামলার পেছনের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘটনাটিকে শহরবাসীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে ক্রাকোর মেয়র লুকাশ গিবালা আগামী বুধবার পর্যন্ত শহরে আনুষ্ঠানিক শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার কারণে শহরের স্বাভাবিক জীবন ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এক ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, ঐতিহাসিক চত্বর আবারও শহরবাসীর দখলে ফিরবে।
উল্লেখ্য, ক্রাকো পোল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী। প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি পর্যটক শহরটি ভ্রমণ করেন। ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ডে এ ধরনের প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা অত্যন্ত বিরল।