তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ব্রেক্সিটের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেনি ইইউ, বার্নহামের জন্য আলোচনা কঠিন হবে: ইইউ শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস

ব্রেক্সিটের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেনি ইইউ, বার্নহামের জন্য আলোচনা কঠিন হবে: ইইউ শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ নভেম্বর :

ব্রেক্সিটের প্রায় এক দশক পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য, অভিবাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনার কথা বলছেন। তবে যুক্তরাজ্য আবারও ইইউতে যোগ দিতে চাইলে সেই পথ সহজ হবে না বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস।

২ নভেম্বর সোমবার ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কালাস বলেন, ব্রেক্সিটের সময় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক কর্মকর্তা এখনো মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা কঠিন হবে।

কালাস বলেন, যুক্তরাজ্যের জনগণ ভবিষ্যতে কী ধরনের সম্পর্ক চায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রেক্সিটের অভিজ্ঞতা এখনো অনেকের মনে রয়েছে। তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হলে তা সহজ হবে না।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন। দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে উভয়েই লাভবান হবে। তবে বড় কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে ধাপে ধাপে এগোনো উচিত।

বার্নহামের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

এর আগে ২৪ অক্টোবর দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নহাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মানুষের অবাধ চলাচল পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে জনগণের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

২৬ অক্টোবর তাঁর ইইউতে পুনরায় যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়ে।

তবে ৩ নভেম্বর আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ইইউর সঙ্গে মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা পুনরায় চালুর কোনো প্রস্তাব দেননি। ভবিষ্যতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ জনগণই প্রধান ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সংসদের মেয়াদে লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করা হবে না। অর্থাৎ, এই সংসদে ইইউর একক বাজার, শুল্ক ইউনিয়ন কিংবা মুক্ত চলাচল ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।

বার্নহামের আগের বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ব্রেক্সিটের পর সম্পর্ক কতটা বদলাবে?

২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দেন। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্য। এরপর বাণিজ্য, অভিবাসন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়ে দুই পক্ষের সম্পর্ক নতুন কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছে।

আগামী ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে খাদ্য ও পানীয় বাণিজ্য, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং তরুণদের চলাচল ও কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

যুক্তরাজ্য এখন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা কমাতে চায়। কিন্তু ভবিষ্যতে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়া কিংবা একক বাজারে প্রবেশের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন হবে।

কাজা কালাসের বক্তব্যে সেই আলোচনার সম্ভাব্য কঠিন দিকটি স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্য সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে চাইলেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সব বিষয়ে দ্রুত সমঝোতা সম্ভব হবে না। ব্রেক্সিটের অভিজ্ঞতা, দুই পক্ষের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এগোতে হবে।