টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন লোকাল প্ল্যান স্বাধীন পরীক্ষার জন্য জমা
কমিউনিটি ডেস্ক, ৯ মার্চ: লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তাদের নতুন লোকাল প্ল্যান ২০২৩–২০৩৮ স্বাধীন পরীক্ষার জন্য জমা দিয়েছে। গত মাসের মাঝামাঝি খসড়া পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটের কাছে পাঠানো হয়।
দ্রুত বর্ধনশীল একটি বারা হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটসের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কাঠামো নির্ধারণে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি ২০২৩ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কে সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি বারার উন্নয়ন, আবাসন, অবকাঠামো ও পরিবেশগত অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রধান আইনগত নথি হিসেবে কাজ করবে।
প্ল্যানটি গৃহীত হলে বারাজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাসস্থান বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিড় কমানো, সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলা এবং টেকসই ও সম্প্রীতিময় নেইবারহুড গড়ে তোলার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বারার নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, স্বাধীন পরীক্ষার জন্য এই পরিকল্পনা জমা দেওয়া টাওয়ার হ্যামলেটসের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তার মতে, এর মাধ্যমে এমন প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে যা সকল বাসিন্দার জন্য সুফল বয়ে আনবে এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করে এলাকাটিকে বসবাস ও কাজের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
নতুন লোকাল প্ল্যানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী আবাসনের হার ৪০ শতাংশে উন্নীত করা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, সমৃদ্ধ টাউন সেন্টার গড়ে তোলা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উন্নত নগর নকশা ও যোগাযোগব্যবস্থা এবং কমিউনিটি সুবিধা ও খোলা জায়গা বৃদ্ধি।
বারার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কৌশলগত উন্নয়ন সাইটগুলোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩২ সালের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসের জনসংখ্যা প্রায় ২০.৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। এরপর তিন বছরে চার দফা পাবলিক কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, মতামত গ্রহণ এবং আইডিয়া স্টোরগুলোতে জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কাউন্সিলের কর্পোরেট ডিরেক্টর ফর হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন ডেভিড জয়সি বলেন, এই পরিকল্পনা দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম এবং বাসিন্দা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে বিস্তৃত অংশগ্রহণের ফল। এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তোলার একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে পরিকল্পনাটি আইনগতভাবে সঙ্গতিপূর্ণ কি না তা যাচাই করতে একজন স্বাধীন পরিকল্পনা পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে। আগামী গ্রীষ্মে এ বিষয়ে আরও পাবলিক কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন লোকাল প্ল্যান ২০২৩–২০৩৮ সম্ভবত ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে। তখন এটি ২০২০ সালে গৃহীত বর্তমান লোকাল প্ল্যানকে প্রতিস্থাপন করবে।