ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ইংল্যান্ডে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় কাটছাঁটের আশঙ্কা, বাড়তে পারে অপেক্ষার সময়
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ আগস্ট :
ইংল্যান্ডে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে লাখ লাখ মানুষকে। আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির NHS-এর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ সেবা ও কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে।
জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত এক জরিপের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া NHS ট্রাস্টগুলোর প্রায় ৬৮ শতাংশ কিছু সেবা কমিয়ে দেওয়া বা পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ৫৭ শতাংশ ক্লিনিক্যাল কর্মীর সংখ্যা কমানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এর ফলে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং ও থেরাপি, মাদকাসক্তি চিকিৎসা, মানসিক সংকটে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের জরুরি সহায়তা এবং বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিম্নআয়ের মানুষ ও বিভিন্ন জাতিগত সম্প্রদায়ের জন্য পরিচালিত কিছু কর্মসূচিও কাটছাঁটের আওতায় আসতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এমনিতেই ক্রমবর্ধমান চাহিদার চাপে রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণে সেবা কমানো হলে রোগীদের অপেক্ষার সময় আরও বাড়বে এবং অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা সময়মতো নাও পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
NHS-এর কয়েকটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর্মী কমানো হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ বাড়বে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
একজন NHS কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পূর্ব লন্ডনের একটি প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে, সেটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। অনেক মানসিক স্বাস্থ্য ট্রাস্ট একই বা আরও কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং কর্মী কমিয়ে ও সেবা সংকুচিত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আরেকটি NHS মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের একজন ম্যানেজারও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে অর্থায়ন কমার পাশাপাশি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা চাপ সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন ট্রাস্টের ওপর।
NHS Alliance-এর মানসিক স্বাস্থ্য নেটওয়ার্কের সহকারী পরিচালক অ্যালেক্স স্টুয়ার্ট বলেন, দ্রুত বাড়তে থাকা চিকিৎসার চাহিদা এবং কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির কারণে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে নজিরবিহীন চাপের মুখে রয়েছে। অর্থ সংকটের সময়ে এ খাতে চাপ আরও বেশি পড়ে, কারণ মোট ব্যয়ের বড় অংশই কর্মীদের পেছনে ব্যয় হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ সপ্তাহে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ২০০টি কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মানসিক স্বাস্থ্য জরুরি বিভাগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা আরও দ্রুত ও সহজে পাবে।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা পরিকল্পনাটিকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেছে, একই সময়ে যদি কর্মী ও বিদ্যমান সেবায় অর্থ বরাদ্দ কমানো হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এখন যে কোনো কাটছাঁটের প্রভাব শুধু হাসপাতাল বা রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিকিৎসা না পেয়ে সংকট আরও গভীর হলে জরুরি বিভাগ, অন্যান্য NHS সেবা, কর্মক্ষেত্র এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।