তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
শিশুদের জন্য ভিন্টেড ও ইবে নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ব্রিটেনের
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ নভেম্বর :
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার জনপ্রিয় কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ভিন্টেড (Vinted) ও ইবে (eBay) ব্যবহারে ১৬ বছরের কম বয়সীদের নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সরকার। অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এসব প্ল্যাটফর্মের মেসেজিং সুবিধা ব্যবহার করে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, প্রলোভন দেখানো এবং যৌন শোষণের দিকে ঠেলে দিতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকেই এ উদ্যোগ।
রোববার বিবিসির ‘সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ’ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি (Lisa Nandy) বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভিন্টেড ও ইবের মতো প্ল্যাটফর্মে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
ভিন্টেডে সাধারণত পুরোনো পোশাক, জুতা ও ব্যাগ কেনাবেচা হয়। ইবেতে বিক্রি হয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এসব প্ল্যাটফর্মে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরাসরি বার্তা আদান-প্রদানের সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা শিশুদের কাছে অর্থ বা উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি চাইতে পারে। শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থাগুলো এ ধরনের ঘটনাকে অনলাইন গ্রুমিং ও যৌন শোষণের ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
সরকারের বিবেচনায় শুধু ভিন্টেড ও ইবে নয়, ব্যবহৃত পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ডিপপ (Depop), ফেসবুক মার্কেটপ্লেস এবং কিছু অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মও আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ভিন্টেড ও ইবে—উভয় প্ল্যাটফর্মেই বর্তমানে অ্যাকাউন্ট খোলার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। কিন্তু অনেক শিশু অভিভাবকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অথবা বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন করে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারে। তাই নতুন পরিকল্পনায় কার্যকর বয়স যাচাইব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ইবে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের বিস্তারিত জানার পর তারা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
এর আগে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউটিউবও এর আওতায় আসতে পারে, তবে ইউটিউব কিডস আলাদা থাকবে। ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্যও রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং অটোপ্লে ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর সুবিধা ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো ব্যক্তিগত মেসেজিং পরিষেবা অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
বয়স যাচাইয়ের জন্য পরিচয়পত্র, মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমানসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সংস্থাগুলো বলছে, শুধু বয়সসীমা আরোপ করলেই অনলাইন অপরাধ বন্ধ হবে না। প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং শিশুদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করাও জরুরি।
সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শিশুদের অনলাইন গ্রুমিং ও যৌন শোষণ থেকে রক্ষা করা। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত তালিকা, বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং নতুন নিয়মের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।