বাংলাদেশ সংবাদ

৬৬৬ কোটি টাকার কর নিয়ে হাইকোর্টের রায়, গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ

৬৬৬ কোটি টাকার কর নিয়ে হাইকোর্টের রায়, গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১০ সেপ্টেম্বর:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে সংশ্লিষ্ট পাঁচ করবর্ষের কর দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের পথ আরেক দফা পরিষ্কার হলো।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

মামলাটি মূলত ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ করবর্ষের আয়কর নির্ধারণ নিয়ে। এনবিআর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি করে। প্রতিষ্ঠানটি ওই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করে।

এই কর বিরোধের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট খারিজ করে এনবিআরের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

তবে ওই রায় শেষ পর্যন্ত বহাল থাকেনি। একই বছরের অক্টোবরে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রায়টি প্রত্যাহার করে নেন। কারণ, বেঞ্চের একজন বিচারপতি আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে মামলাটি নতুন বেঞ্চে পুনঃশুনানির জন্য পাঠানো হয়।

এরপর মামলাটি নতুন করে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রিট খারিজ করা হলো। অর্থাৎ, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এনবিআরের কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন আদালতে টেকেনি।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা জরুরি—৬৬৬ কোটি টাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত আয়কর নয়। এটি গ্রামীণ কল্যাণ নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর দাবি। বিভিন্ন সময়ে সংবাদে বিষয়টি ‘ড. ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকা কর’ হিসেবে উপস্থাপিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ইউনূসের আইনজীবীও এ বিষয়ে বলেন, কর মামলাটি তখনও বিচারাধীন ছিল এবং কর মওকুফের খবর ভিত্তিহীন।

এখন হাইকোর্টের নতুন রায়ের ফলে ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবিকে ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণের আইনি চ্যালেঞ্জ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাল। তবে আদালতের রায়ের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকলে সেটিও এই বিরোধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রায় এক দশক ধরে চলা এই কর বিরোধ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের রাজস্ব দাবি, করদাতার আইনি অধিকার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা—তিনটি বিষয়কেই সামনে নিয়ে এসেছে।